The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে করোনা ভাইরাসে!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্ব যুদ্ধের দামামার কথা আমাদের অনেকের জানা। তবে সেই দামামার থেকেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। বলা হচ্ছে দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে করোনা ভাইরাসে!

দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে করোনা ভাইরাসে! 1

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মিলে যতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, করোনায় তার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাবে বলে করোনার শুরুতেই সতর্ক করেছিলেন চীনের লেইশেনশেন হসপিটালের প্রধান ওয়াং শিংহুয়ান।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে চীনের উহান শহরে অস্থায়ীভাবে হাসপাতাল নির্মাণের সময়ই বিশ্বকে এই হুশিয়ারি দিয়েছিলেন ওয়াং শিংহুয়ান।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস খুব ভয়ঙ্কর। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মিলে যতো মানুষ প্রাণ দিয়েছে , করোনায় তার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে এএফপি।

এই পরিস্থিতিতে যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি কেবল নিজস্ব প্রয়োজন বিবেচনা করাটা ও সাধারণ মানুষের জীবনকে অবহেলা করা অত্যন্ত বোকামি হবে বলে মন্তব্য করা হয়।

ওই সময় মাস্ক পরার ব্যাপারেও বিশেষ জোর দেন শিংহুয়ান। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ যথেষ্ট রাখারও পরামর্শ দিয়েছিলেন ওয়াং শিংহুয়ান।

মাস্ক পরা সম্পর্কে তিনি বলেনছিলেন, যখন নিউইয়র্কের ডাক্তারদের সঙ্গে আমার কথা হয়, তারা বলেছিলেন ফেস মাস্ক ব্যবহার করা বা না করার বিষয়টা সংস্কৃতির ব্যাপার।

হংকংয়ের ফনিক্স টেলিভিশন হতে এই বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়। আমি মনে করি যে, সকল গণমাধ্যমেরই এই বার্তা দেওয়া উচিৎ যে, ফেস মাস্ক ব্যবহার করা কোনো সংস্কৃতির বিষয় নয়। এটা বিজ্ঞানসম্মত একটি জিনিস। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিজেদের সুরক্ষার জন্যই মাস্ক পরতে হবে।

নিউইয়র্কে মহামারিটি ছড়িয়ে যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন ওয়াং শিংহুয়ান। তিনি বলেন, উহানে এই ধরনের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা আমাদের যথেষ্ট হয়েছে। অনেক রোগীর মধ্যেই হালকা ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। তাদেরকে বাড়ি ফিরে গিয়ে আইসোলেশনে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল।

তবে আরও পরে আমরা বুঝেছি, এটা আসলে বড় ধরনের ব্যর্থতা। এই ভুলটি এখন নিউইয়র্ক করছে বলে মন্তব্য করেন ওয়াং শিংহুয়ান।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...