The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মালয়েশিয়ায় লকডাউনে কড়াকড়ি করায় আক্রান্ত কমছে

অধিবাসীদের আক্রান্তের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন- বাংলাদেশের ৬৩ জন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে মালয়েশিয়ায় টানা লকডাউন ও কড়াকড়ি আরোপের কারণে ইতিমধ্যেই কমতে শুরু করেছে আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা।

মালয়েশিয়ায় লকডাউনে কড়াকড়ি করায় আক্রান্ত কমছে 1

প্রবাসীদের মধ্যে ৬৩ বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৬০১ অভিবাসী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে অভিবাসীদের করোনায় আক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়ায় সর্বমোট ৬০১ বিদেশী অভিবাসীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ১০৮ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ফিলিপাইনের ১০৪ জন।

অধিবাসীদের আক্রান্তের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন- বাংলাদেশের ৬৩ জন। এছাড়াও ভারীয় ৬০, পাকিস্তানের ৫১ জন। বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জন বিদেশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

জানা গেছে, ৬০১ জন আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠছেন ২৪২ জন। এ ছাড়াও এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৫৬ জন। দেশটিতে শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৬৯ জন। তার বিপরীত সুস্থ হয়ে উঠেছে ২০১ জন। মৃত্যু ঘটেছে ২ জনের। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৫১ ও সুস্থ হয়েছেন ২৯৬৭ জন নাগরিক। মৃত্যু ঘটেছে সর্বমোট ৮৬ জনের।

ইতিপূর্বে, মালয়েশিয়ায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ আদেশ (এমসিও) লঙ্ঘন করায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। এমসিও লঙ্ঘনের দায়ে ১৮ মার্চ হতে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে ১৪ হাজার ৯২২ জনকে গ্রেফতারও করা হয়।

প্রথম ধাপে মোট ৩ হাজার ৬২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭ হাজার ৬৬৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

যার মধ্যে ৫ হাজার ৮৩০ জনকে আদালতে অভিযুক্ত করা হয়। তৃতীয় ধাপে গ্রেফতার হওয়া সবাইকে আদালতে অভিযুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এমসিও লঙ্ঘন করা কোনো ছোট অপরাধ নয়। প্রত্যেকে যদি এটি মেনে না চলেন, তাহলে এটি দেশের জন্য একটি বড় বিপর্যয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন থেকে কন্ট্রোল অর্ডার অমান্যকারীদের রিমান্ডে নেওয়ার পর সোজা আদালতে সোপর্দ করবে দেশটির পুলিশ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ইসমাইল বলেন যে, ‘নতুন এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সরকার। অনেকেই লকডাউন অমান্য করছেন দেখে এমন পদক্ষেপ নিতে সরকার বাধ্য হয়েছে’।

উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ায় গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন ১৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার সংক্রমণ চলমান থাকায় এর সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে দেশটির সরকার।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...