The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গবেষণা বলছে: সূর্যের আলোতে মাত্র কয়েক মিনিটেই মারা যায় করোনা!

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির বিকিরণ করোনা ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও এতে এর বিস্তারও বাধাপ্রাপ্ত হয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সূর্যের আলোতে মাত্র কয়েক মিনিটেই মারা যেতে পারে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এলো।

গবেষণা বলছে: সূর্যের আলোতে মাত্র কয়েক মিনিটেই মারা যায় করোনা! 1

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির বিকিরণ করোনা ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও এতে এর বিস্তারও বাধাপ্রাপ্ত হয়।

জানা যায়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা উইলিয়াম ব্রিয়ান হোয়াইট হাউস হতে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন গবেষণা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা এবং আদ্রতা বৃদ্ধি করোনা ভাইরাসের জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকারক। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, গ্রীষ্মে হয়তো এই ভাইরাসের বিস্তারটি কমতে শুরু করবে।

ইতিপূর্বেও এক গবেষণায় বলা হয় যে, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার কমানো সম্ভব। এটি বিশ্বের যে কোনো স্থানের জন্যই প্রযোজ্য। তবে শুধুমাত্র আবহাওয়া পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ভাইরাসের প্রকোপ একেবারে বন্ধ করা কখনও সম্ভব নয়।

সেই সময় চীনের বেইহাং এবং সিনঘুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, চীনের শতাধিক শহরে আবহাওয়া উষ্ণ ও সেখানকার আদ্রতা বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কমেছে।

এক গবেষক বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও আদ্রতায় দেখা গেছে যে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কমছে। গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উষ্ণ তাপমাত্রা, তাপদমাত্রা এবং আদ্রতা কেবলমাত্র ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে সক্ষম। তবে এটি ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করতে পারে না মোটেও।

চীনে যখন এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছিল তখন সেখানকার তাপমাত্রা খুবই কম ছিল। চারদিকে ঠাণ্ডা ও কম তাপমাত্রার কারণে ভাইরাসের প্রকোপ খুব দ্রুতই বৃদ্ধি পেয়েছে।

হোয়াইট হাউস হতে উইলিয়াম ব্রিয়ান বলেন, আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করেছি যে, সূর্যের আলোতে করোনা ভাইরাসের মৃত্যু ঘটে। এটা কোনো কিছুর উপরিভাগ কিংবা বাতাসে থাকা অবস্থায় করোনার মৃত্যু ঘটাতে পারে।

আমরা আদ্রতা এবং তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা লক্ষ করেছি। যেখানে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা বেশি থাকে তার চেয়ে কম তাপমাত্রা ও আদ্রতাপূর্ণ এলাকায় ভাইরাসটি খুব সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এটা কোনো থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এর কারণ হলো সূর্যের বেগুণী রশ্মী কোনো রোগীর শরীরে ঢুকে ভাইরাসকে মারতে মোটেও সক্ষম নয়।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভাইরোলজিস্ট বিভাগের অধ্যাপক ইয়ান জোনস বলেছেন, এটা বহু বছর ধরেই সবারই জানা যে, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি অনেক ভাইরাসের জন্যই ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এটা আসলে একেবারে নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই এই তথ্য জানতে পারাটা আমাদের জন্য কাজে আসবে।

জোনস আরও বলেন, অবশ্য এটাকে করোনার ক্ষেত্রে চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কারণ হলো সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, যদি কোভিড-১৯ এর বিস্তার গ্রীষ্মে কমে আসে তবে শীতকালে এর প্রকোপ বাড়তেও পারে।

গবেষকরা বলেছেন, শীতকালীন আবহাওয়ায় ঠাণ্ডা, কাশি ও জ্বরের মতো উপসর্গগুলো আরও বেড়ে যায়। এই সময় এই ভাইরাসটি খুব সহজেই বিস্তার লাভ করতে পারে ও শরীরে হানাও দিতে পারে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই ভাইরাসটি দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে না।

আগেই এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস টিকে থাকতে পারে না। গবেষকরা বলেছেন, প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে করোনার প্রকোপ কমার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ তাপমাত্রা যতো বাড়বে এই ভাইরাসের বৃদ্ধিও ততো ঠেকানো সম্ভব হবে। তবে শুধুমাত্র তাপমাত্রা বাড়িয়েই এই ভাইরাসের বিস্তার একেবারে বন্ধ করা কখনও সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র: https://www.deshebideshe.com

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...