The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশেষজ্ঞের আশা জুন শেষে করোনায় মৃত্যুর হার শূন্যে নামবে

এমন দাবি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এভিডেন্স-বেসড মেডিসিনের ডিরেক্টর অধ্যাপক কার্ল হেনেঘান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুহার যেভাবে কমছে তাতে করে আশা করা যাচ্ছে যে আগামী মাস শেষে অর্থাৎ জুলাইয়ে করোনায় মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞের আশা জুন শেষে করোনায় মৃত্যুর হার শূন্যে নামবে 1

এমন দাবি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এভিডেন্স-বেসড মেডিসিনের ডিরেক্টর অধ্যাপক কার্ল হেনেঘান। যুক্তরাজ্যে বিগত কয়েক সপ্তাহে করোনায় দৈনিক মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন আভাস দেন এই অধ্যাপক।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের (ওএনএস) এক পরিসংখ্যান বলছে যে, মঙ্গলবার দেশটিতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৪৫ জন (অর্থাৎ দৈনিক ভিত্তিতে গত সপ্তাহের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম)। তার আগের সপ্তাহে ১১ মে মারা যায় ৬২৭ জন। ৯ এপ্রিল এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৫২ জন। অর্থাৎ পূর্বের তুলনায় দেশটিতে দৈনিক মৃতের হার আরও কমছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩৪১ জনে।

ইতিপূর্বে গত ৮ মে ছিল শুক্রবার। ওএনএস বলছে, ওই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেয়ার হোমগুলোতে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৪৮ জন। তার পূর্বের সপ্তাহে ছিল ৬ হাজার ৪০৯ জন। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেয়ার হোমে মৃতের সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ২ হাজার ১৬২১ জন। এর মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৬৬ জন।

যুক্তরাজ্যে বিগত তিন সপ্তাহের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অধ্যাপক কার্ল হেনেঘান বলেছেন যে, ‘আমি মনে করি, যদি করোনায় মৃতের হার এভাবেই কমতে থাকে তাহলে আমি বলবো, জুন শেষে কোভিড-১৯ আক্রান্ত লোকজনকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই কষ্ট হয়ে যাবে।‌’

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে আঘাত হানে করোনা। এই পর্যন্ত বিশ্বের ৪৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮১ জন আক্রান্ত হন। মারা গেছেন অন্তত ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯১২ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৫ জন।

তবে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। মারা গেছেন ৯৩ হাজার ৫৩৩ জন। এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিনই আবিষ্কার হয়নি করোনা ভাইরাসের।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...