The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এখনও করোনামুক্ত বিশ্বের ১২টি দেশ

বিশ্বব্যাপী দানবরূপে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনার মতো মহামারী বা যাকে বলা যায প্রাণঘাতি সেই করোনা ভাইরাস এখনও যাদেরকে ছুঁতে পারেনি সেই ১২টি দেশকে বলা যায় ভাগ্যবাদ দেশ। কেনো করোনা তাদের ছুঁতে পারেনি তা জেনে নিন।

এখনও করোনামুক্ত বিশ্বের ১২টি দেশ 1

বিশ্বব্যাপী দানবরূপে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে সব প্রান্তে এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আক্রমণ হলেও এখন পর্যন্ত মুক্ত রয়েছে অন্তত ১২টি দেশ।

গত শুক্রবার পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে সংক্রমণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি এসব দেশগুলোতে। দেশগুলোর বেশির ভাগই হলো ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত।

দেশগুলো হলো:

১. উত্তর কোরিয়া
২. তুর্কমেনিস্তান
৩. সলোমান আইল্যান্ড
৪. ভানুয়াতু
৫. সামোয়া
৬. কিরিবাতি
৭. মাইক্রোনেশিয়া
৮. টোঙ্গা
৯. মার্শাল আইল্যান্ড
১০. পালাউ
১১. ট্যুভালু
১২. নাউরু।

অপরদিকে করোনামুক্ত রয়েছে ভারতের লাক্ষাদ্বীপও। ৩৬টি দ্বীপ এবং ৭০ লাখ বাসিন্দা নিয়ে গঠিত আরব সাগরের এই দ্বীপপুঞ্জটিতে এখন পর্যন্ত একজনও শনাক্ত হয়নি। তথ্য আলজাজিরার।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের দিকে চীনের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল নভেল করোনা ভাইরাস। তারপর যতোই দিন গড়ায়, ততোই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশে দেশে। সংক্রমণের এক মাসের মাথায় এটিকে প্যানডেমিক তথা বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্রিউএইচও)।

পুরো বিশ্বে দুই শতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক অঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ স্বীকৃত দেশ হলো ১৯৩টি। ডব্রিউএইচওর তথ্য মতে, গত ৬ মাসে এই ভাইরাসটি ১৮৮টি দেশে হানা দিয়েছে।

তবে এ পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপঘেরা ১২টি দেশে পৌঁছাতে পারেনি। এপ্রিলের ১৩ তারিখ পর্যন্ত এ তালিকায় ছিল ১৬টি দেশ। তার মধ্যে ৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস।

সবশেষ করোনা ছড়িয়ে পড়া দেশের তালিকায় রয়েছে কমোরস, লেসোথো, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে এবং তাজিকিস্তান। তবে অদূরভবিষ্যতে বাকি দেশগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে করোনা যখন বিশ্বের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেছে, তখন উপরোক্ত দেশগুলো কিভাবে মুক্ত রইলো সেই বিষয়ে বিশ্লেষকদের মতামত হলো:

উত্তর কোরিয়া

চীনা প্রাদুর্ভাবের পরই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের সীমান্ত সিলগালা করে দেয় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ২১ জানুয়ারি সীমান্ত চীনের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশটির সীমান্ত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত তা খোলা হয়নি।

সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনসহ নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা নাগরিকদের জন্য এক থেকে দুই মাস কোয়ারেন্টিনে রাখার বিষয়টি ছিলো অন্যতম। দেশটির সরকারের পক্ষ হতে এ পর্যন্ত সংক্রমণের কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।

তুর্কমেনিস্তান

উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত দিয়ে ঘেরা মধ্য-এশিয়ার অন্যতম দেশ হলো এই তুর্কমেনিস্তান। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে করোনার খবরের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এই দেশটির সরকার। ফেব্রুয়ারি মাস হতেই চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হয় সীমান্ত। ফেব্রুয়ারী হতে এ পর্যন্ত বিদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ওশেনিয়া মহাদেশের ১০ দেশ

তিন ওশেনিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে কম লোক যাতায়াত করে থাকে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এমন ১০টি দেশই কোভিড-১৯ মুক্ত রয়েছে। দেশগুলোতে করোনা না পৌঁছানোর অনেক কারণ বিদ্যমান।

যার মধ্যে অন্যতম হলো এগুলোর দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা। দ্বীপদেশ হওয়ায় লোকজনের যাতায়াতও কম। এই দেশগুলোতে ঘনবসতিও নেই। যে কারণে সেখানকার বাসিন্দারা এমনিতেই বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করে অভ্যস্ত। প্রাকৃতিকভাবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা খুবই সহজ হয়েছে এসব দেশে। যে কারণে করোনা ছোবল থেকে এখন পর্যন্ত মুক্ত রয়েছে এইসব দেশগুলো।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...