শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাবেন যেভাবে!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ ভিটামিন ডি’র অভাবে অনেক ধরণের অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি দেখা দেয়। সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসার পর দেহ-ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে। তাছাড়া, খাবার দাবার থেকেও এ ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি’র ঘাটতির কারণে দেহের হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।


Screenshot_21

সাধারণত ভিটামিন ডি দুই ধরণেরঃ
সাধারণত দুইধরণের ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি২ এবং ভিটামিন ডি৩। ভিটামিন ডি২ পাওয়া যায় সাধারণত খাবারে এবং ভিটামিন ডি৩ পাওয়া যায় সূর্য কিরণে। দুই ধরণের ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। আমরা যদি খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি২ পাই তবে সে ভিটামিন ডি২ কে সূর্য কিরন ভিটামিন ডি৩ তৈরিতে কাজে লাগাবে।

ভিটামিন ডি-৩ কি?
ভিটামিন ডি৩ কেবল মাত্র একটি সাধারণ ভিটামিন নয়। এটি রক্তে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সাধারণ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে যদি ফসফরাসের পরিমাণ কমে যায় তবে কাজ কর্মের পর একজন মানুষ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তে ফসফরাস ভারী কাজের পর শরীরকে আবার সচল করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

এছাড়া ভিটামিন ডি৩ অন্ত্রের এবং হাড়ের ক্যালসিয়ামও নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে মানুষের হাড়ের গঠন শক্ত হয়। ভিটামিন ডি৩ শরীরের একাধিক স্ক্লেরসিস রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি৩ এর সাথে শরীরের ওজন কমা ও বাড়ার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন ডি৩ এর অভাবে ক্যানসার ও উচ্চ রক্তচাপ রোগ হতে পারে।

যাদের জন্য ভিটামিন ডি৩ বেশী প্রয়োজনঃ
সাধারণত সবারই ভিটামিন ডি৩ প্রয়োজন তবে শিশু এবং বয়স্ক মানুষের হাড়ের গঠন ঠিক রাখতে ভিটামিন ডি৩ বেশী প্রয়োজন। এছাড়া প্রেগন্যান্ট মা দেরও ভিটামিন ডি৩ বেশী প্রয়োজন। কারণ মায়ের পেটে সন্তানের হাড় গঠনের হরমোন এই ভিটামিন ডি৩ থেকেই পাওয়া যায়।

আমরা কোথায় পাব ভিটামিন ডি?
খাবারের মধ্যমে ভিটামিন ডি২ পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি৩ সাধারণত সূর্য কিরন থেকে পাওয়া যায়। আমাদের চামড়ার নীচে থাকা ভিটামিন ডি২ যা সুর্যের আলোর উপস্থিতিতে ভিটামিন ডি৩ তে পরিবর্তিত হয়।

আমরা যেভাবে শরীরে ভিটামিন ডি৩ বাড়াতে পারিঃ
সূর্যকিরনঃ কেউ যদি নিয়মিত সূর্যের আলোয় না যায় তবে তার শরীরে ভিটামিন ডি ৩ এর অভাব দেখা দিতে পারে। অতএব সূর্য কিরন আমাদের শরীরের ভিটামিন ডি৩ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সাধারণত আমাদের চামড়ার নিচের স্থরে থাকে ভিটামিন ডি২ আমরা যখন সূর্য কিরণে যাই তখন আমাদের চামড়ার নিচে থাকা ভিটামিন ডি২ ভিটামিন ডি৩ তে রূপান্তরিত হয়। তবে মনে রাখতে হবে সকালের সূর্য কিরণ ভিটামিন ডি৩ তৈরিতে বিশেষ কার্যকরী।

মাশরুমঃ বর্তমানে মাশরুম অনেকেই চেনেন, মাশরুম একটি আপ্রচলিত পুষ্টিকর খাবার। মাশরুম খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি২ এর পরিমাণ বাড়বে, পরে আপনি সূর্য কিরণে গেলে তা ভিটামিন ডি৩ তে রূপান্তরিত হয়।

সূর্য মুখীর বীজঃ সূর্য মুখী ফুল থেকে পাওয়া বীজ ভিটামিন ডি২ এবং ভিটামিন ডি৩ এর বিশেষ উৎস! যারা নিরামিষ খাবার খান তাদের জন্য সূর্য মুখী ফুলের বীজ একটি উৎকৃষ্ট ভিটামিন ডি এর উৎস। এছাড়া আপনি সূর্য মুখী বীজের তৈল থেকে ও ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

ঘরের বাইরে ব্যায়ামঃ ঘরের বাইরে ব্যায়াম মানেই সূর্যের আলোতে ব্যায়াম, ফলে আপনার শরীরে ব্যায়ামের পাশাপাশি সূর্যের পর্যাপ্ত আলো পড়বে। এতে আপনার শরীর সূর্য কিরণ থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি৩ তৈরি করে নিতে পারবে। তবে সুর্যের মিস্টি আলো এ কাজ করে থাকে । সুর্যের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা ভাল । অতি বেগুনী রশ্মি স্কিন ক্যানসার এর কারন হতে পারে তাছাড়া চামড়ায় মেলানিন এর পরিমান বৃদ্ধি করে দেহের রং কালো করে ফেলে ।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টাইমস

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...