The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নতুন করে তিন জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো অকল্যান্ডে লকডাউন!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নতুন করে তিন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

নতুন করে তিন জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো অকল্যান্ডে লকডাউন! 1

এ লকডাউন আগামী তিনদিন বহাল থাকবে বলে ঘোষণায় জানানো হয়েছে। এই সময় বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, আক্রান্ত শনাক্তের পরপরই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে তার দেশ। লকডাউনের সময় জরুরি কাজ, কেনাকাটা ছাড়া অকল্যান্ডের ১৭ লাখ বাসিন্দাকে ঘরের মধ্যেই থাকতে হবে। বিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় দোকানও বন্ধ থাকবে। শহরে প্রবেশে ও বেরোতে থাকবে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, লকডাউনের তিনদিনে কর্তৃপক্ষ ব্যাপকহারে করোনা পরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহ করবেন। এর মাধ্যমে গণসংক্রমণ ঘটেছে কি না তাও জানা যাবে। নতুন আক্রান্তদের থেকে গণসংক্রমণ হোক এটা আমরা কেওই চাই না।

এদিকে অকল্যান্ডের মেয়র ফিল গোফ এই বিষয়ে বলেছেন, সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধিনিষেধই হলো উত্তম পন্থা।

নিউজিল্যান্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য খোলা থাকলেও পুরো দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি অব্যাহত রয়েছে। সম্ভব হলে কাজকর্মের ক্ষেত্রে বিকল্প উপায় খুঁজতে নাগরিকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার সাউথ অ্যাকল্যান্ডের একই পরিবারের মা-বাবা ও মেয়ের করোনা শনাক্ত হওয়ার পরই লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা কিভাবে আক্রান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মা একটি এয়ারলাইন ক্যাটারিংয়ের লন্ড্রি ডিপার্টমেন্টে কর্মরত। বাবা একজন ব্যবসায়ী।

বিশ্বে করোনা মোকাবিলায় সফলতার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। কঠোর বিধিনিষেধের জন্যই বেশ কয়েক মাস ধরে দেশটিতে গণসংক্রমণ একেবারে বন্ধ রয়েছে। ভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম দিকেই বিদেশীদের জন্য সীমান্ত প্রায় সীলগালা করে দিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখের মতো। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনের দেহে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ জন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...