The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এক নজরে মিষ্টি মেয়ে কবরীর জীবন কাহিনী

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত সারাহ বেগম কবরী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে তার আগমন ঘটে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ ঘটে তার।

এক নজরে মিষ্টি মেয়ে কবরীর জীবন কাহিনী 1

তারপর একে একে সৃষ্টি করেছেন নানা ইতিহাস। অভিনয় দিয়েই মাতিয়ে রেখেছিলেন চলচ্চিত্রাঙ্গন, পেয়েছেন মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই প্রিয় মানুষটি সবাইকে ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন পরপারে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০ মিনিটে।

অভিনয়ের পাশাপাশি কবরী ছিলেন একজন পরিচালক এবং প্রযোজক। সর্বশেষ সরকারি অনুদানের একটি সিনেমার নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু তা শেষ করে যেতে পারলেন না। তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি আসন হতে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। কবরী যুক্ত হয়েছিলেন নারী অধিকার এবং সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গেও।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেন কবরী। তিনি ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময় তার নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল ও মা লাবণ্য প্রভা পাল। বেড়ে উঠেন সংস্কৃতির চর্চাকে সঙ্গী করেই।

১৯৬৪ সালে মাত্র ১৪ বছরে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন কবরী।
১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়,
১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’
১৯৭০ সালে উপহার দেন ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা হতে গ্রামের বাড়ি চলে যান কবরী। সেখান থেকে চলে যান ভারতে। কোলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি এবং অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি চলচ্চিত্র। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পেয়েছিলো বেশ জনপ্রিয়তা।

নায়ক ফারুকের সঙ্গে তার ‘সারেং বউ’ এবং ‘সুজন সখী’ সিনেমা দুটি কালজয়ী চলচ্চিত্র হয়ে রয়েছে৷ ‘সুজন সখী’ সিনেমাটি ব্যবসায়িক দিক হতে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের একটি মাইলফলক।

কবরী পার্বতী চরিত্রে দর্শক মাতিয়েছেন বুলবুল আহমেদের সঙ্গে ‘দেবদাস’ সিনেমাতে। তিনি নায়িকা হয়েছেন ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, আলমগীর, জাফর ইকবালের বিপরীতে।

কবরী অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন একজন পরিচালক এবং প্রযোজক। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেন। সর্বশেষ শুরু করেছিলেন সরকারি অনুদানের একটি সিনেমার নির্মাণেরকাজ। তবে সেটি শেষ করে যেতে পারলেন না।

কবরীকে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ সরকার। ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও ৫ বার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেছেন এই অভিনেত্রী।

কবরী যুক্ত ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হতে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্ত হন অসংখ্য নারী অধিকার এবং সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক একটি বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

ব্যক্তিজীবনে কবরী প্রথমে বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সেই দাম্পত্য জীবন খুব বেশিদিন টিকেনি। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে আবারও বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

সারাহ বেগম কবরী ৫ সন্তানের জননী ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে কবরী বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষের মনের মধ্যে এক চিলতে ঠাঁই করে নেওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম, অনেক সংগ্রামও করেছি। কতো নতুন কিছু বুঝতে ও জানতে শিখেছি। নিজেকে সেই ভাবেই তৈরি করেছি। এক হাজার ১১ টাকা পুঁজি নিয়ে বাংলার ৭ কোটি মানুষের হৃদয় দখল নেওয়া ছিল অনেক কঠিন একটি কাজ।’

সেই কিংবদন্তী অভিনেত্রী আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...