The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের আসলে কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকৃতপক্ষে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ নতুন কোনো রোগ নয়, এটি প্রায় একশ’ বছরের পুরোনো ছত্রাকজনিত একটি রোগ। দেশে প্রতি বছরই অল্প কিছু মানুষ বিরল এই রোগ আক্রান্ত হন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের আসলে কী? 1

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসসহ নানা কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই রোগ হলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া, চোখে ঘোলা দেখা, মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হওয়াসহ শরীরে কালোদাগ দেখা দেওয়া ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে’ আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ।

মিউকরমাইকোসিস কিংবা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সর্বত্রই বিরাজমান। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, মাটি, গাছপালা, সার কিংবা পচনশীল ফল এবং সবজির মধ্যেও এটি থাকতে পারে। তবে সব মানুষ এতে আক্রান্ত হয় না।

বিএসএমএমইউ’র মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইমিউনলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আহমেদ আবু সালেহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শত বছরের পুরোনো একটি রোগ। এটি কোনো সাধারণত মানুষকে সংক্রমিত করে না। এটি প্রকৃতিতেও প্রচুর রয়েছে তবে আমরা সচরাচর এতে সংক্রমিত হই না। এটি মাটিতে থাকে এবং পচনশীল সব জৈব পদার্থেই থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য মতে দেখা যায়, জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা স্টেরয়েড ওষুধ গ্রহণের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের এই ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রকৃতিতে থাকা এই ছত্রাক নাক দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সাইনাসে ও ফুসফুসেও ঢুকতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তির শরীরে কাটা ছেরা, পোড়া কিংবা চামড়ায় ক্ষত থাকলে সেখানেও এটি সংক্রমিত হতে পারে।

বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরী মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এম. দেলোয়ার হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কারও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস যদি থাকে। অন্য কোনো কারণে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাদেরকে এই রোগ সংক্রমিত করতে পারে। করোনা যেমন ছোঁয়াচে, তবে এটা একজনের থেকে অন্যজনের কাছে যাবে না।

গবেষণায় দেখা যায় যে, ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র দু’জন এই ছত্রাকে সংক্রমিত হয়ে থাকেন। এই রোগটি ছোঁয়াচেও নয়। দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিউকরমাইকোসিস কিংবা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে এবং মাঝে মধ্যে শনাক্তও হয়ে থাকে এই রোগটি।

তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাই বিরল এই রোগে আক্রান্তদের সরকারি খরচে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...