The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস চিংড়ি শিল্পে অশনি সংকেত ॥ কার্গো উড়োজাহাজ সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হ্যাচারি শিল্প

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ চিংড়ি আমাদের মৎস্য রপ্তানির একটি বড় মাধ্যম। এই চিংড়ি আমরা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি। এই বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটি সহায়ক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সমপ্রতি এই চিংড়ি শিল্প নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।
রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস চিংড়ি শিল্পে অশনি সংকেত ॥ কার্গো উড়োজাহাজ সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হ্যাচারি শিল্প 1
জানা গেছে, কার্গো উড়োজাহাজ সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের হ্যাচারি শিল্প। ফ্লাইট না থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি চিংড়ি পোনা মারা যাচ্ছে। আর রুগ্ন ও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে আরও কমপক্ষে এক কোটি পোনা। এতে প্রতি মাসে সবমিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে চিংড়ি সেক্টরের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ উঠেছে সিভিল এভিয়েশন ও কতিপয় কার্গো ব্যবসায়ীর যোগসাজশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। প্রতি মৌসুমে তারা এভাবে কার্গো উড়োজাহাজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, একটি গোষ্ঠী সিভিল এভিয়েশনের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অংকের মাসোহারায় ম্যানেজ করে একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে। এই সেক্টরে যাতে অন্য কার্গো উড়োজাহাজ আসতে না পারে সেজন্য নানা ফন্দিফিকিরের আশ্রয় নিচ্ছে তারা। নতুন কোন ব্যবসায়ী এলেও তাদের নানা মারপ্যাঁচে আটকে দিচ্ছে। এজন্য প্রতি মাসে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতিবাজ ওই সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করতে হচ্ছে।

পোনা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সিভিল এভিয়েশনের সব ধরনের নিয়মনীতি মেনে ৭ এপ্রিল দুটি অত্যাধুনিক এন-২৬বি কার্গো এয়ারক্রাফট আনলেও সেগুলোকে এখনও ফ্লাইট পরিচালনা করতে দিচ্ছে না সিভিল এভিয়েশন। উড়োজাহাজ আনার আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লিয়ারেন্স দিলেও এখন বলছে নানা সমস্যা। এই অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে না পারায় প্রতিদিন তাদের ১৩ জন ক্রু’র বেতনসহ ৮ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি পদে ব্যবসায়ীরা এভাবে হোঁচট খাচ্ছে। এর আগে রূপসী বাংলা নামে একটি এয়ারলাইন্সের দুটি উড়োজাহাজ চট্টগ্রামে আনার পরও তাদের ফ্লাইট করতে দেয়া হয়নি। উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল হোসেনকে।

পোনা উৎপাদনকারী (হ্যাচারি মালিক) নজিবুল ইসলাম জানান, উড়োজাহাজ না থাকায় সড়ক পথে ট্রাকে করে পোনা আনা-নেয়া করতে গিয়ে প্রতিদিন গড়ে আড়াই কোটি পোনা মারা যাচ্ছে। কার্গো উড়োজাহাজে কক্সবাজার থেকে খুলনায় পোনা সরবরাহে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘণ্টা। কিন্তু সড়ক পথে ২৪ ঘণ্টার বেশি লাগে। তখন অক্সিজেন সংকটে রাস্তায় ৬০ ভাগ পোনা মারা যায়। এছাড়া অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে যায় আরও এক কোটি পোনা। সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মাত্র একটি কার্গো উড়োজাহাজ রয়েছে মাছের পোনা আনা-নেয়ার জন্য। ইজি ফ্লাই এক্সপ্রেস লিমিটেডের ওই কার্গো জাহাজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ দেড় কোটি পোনা আনা-নেয়া করা সম্ভব। উড়োজাহাজ না থাকায় তারা প্রতিদিন দুটির বেশি ফ্লাইট চালাতে পারছে না।

হ্যাচারি মালিকরা বলেছেন, অন্য কোন কার্গো জাহাজ না থাকায় ইজি এয়ারলাইন্স মনোপলি ব্যবসা করছে। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভাড়াও বেশি নিচ্ছে। তাদের বক্তব্য দীর্ঘদিনের পুরনো ওই জাহাজটি যে কোন সময় টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে বসে গেলে ধস নামবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগে। এ প্রসঙ্গে ইজি ফ্লাই এক্সপ্রেস লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পারভিন এ নাহার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের সব ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ করে তারা ফ্লাইট চালাচ্ছেন। তাদের মাত্র একটি উড়োজাহাজ থাকায় তারা প্রতিদিন দুটির বেশি ফ্লাইট চালাতে পারছেন না। তার মতে এই সেক্টরটি অনেক বড়। সরকারের যথাযথ সহযোগিতা পেলে এই খাত থেকে বিপুল অংকের রাজস্ব আয় সম্ভব।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

1 টি মন্তব্য
  1. Vitor বলেছেন

    So exceitd I found this article as it made things much quicker!

bn_BDBengali