দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির তথ্য নিয়ে বিশাল ডেটাবেজ তৈরি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ক্যাগান সেকারিসওগলু।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রজাতির পাখিই বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা প্রতিদিন যেসব পাখি দেখি, তার মধ্যে অনেক পাখিই রয়েছে ঝুঁকিতে। বিশ্বের ৫৪ শতাংশ প্রজাতির পাখিই পোকাখেকো। এইসব পাখি বেশি সংকটে রয়েছে। এ ছাড়াও যেসব সামুদ্রিক পাখি মাছ খায়, তারা রয়েছে বিলুপ্তির উচ্চঝুঁকিতে। তাই পাখিদের রক্ষায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বিশাল ডেটাবেজ তৈরি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ক্যাগান সেকারিসওগলু। ‘বার্ডবেস’ নামে এই ডেটাবেজে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ প্রজাতির পাখির তথ্য বিদ্যমান। সম্প্রতি বিশ্বের সব বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এই ডেটাবেজটি।
ক্যাগান সেকারিসওগলু ১৯৯৯ সালে ছাত্রাবস্থায় বনে বসবাস করা এবং পোকামাকড় খাওয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পাখির কিছু প্রজাতির তথ্য জানতেও আগ্রহী হন। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা পাখির প্রজাতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল তার। তবে সেই সময় পাখির বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে অনেক চেষ্টা করেও বিস্তারিত কোনোই তথ্য তিনি জানতে পারেননি। তখন থেকেই ক্যাগান বিভিন্ন প্রজাদির পাখি বিশ্লেষণ করা শুরু করে দেন। তারপর নিজেই একটি ডেটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার ২৬ বছরের কাজের ফসলই হচ্ছে এই বার্ডবেস। এই ডেটাবেজে ২৫৪টি পাখি পরিবারের অধীনে থাকা ১১ হাজার ৫৮৯টি প্রজাতির পাখির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীরের ভর, বাসস্থান, খাদ্য, পাখিদের বাসার ধরন, ডিমের সংখ্যা, চলাচলের কৌশল এবং উড্ডয়ন উচ্চতার তথ্যও।
তবে অনেক তথ্য থাকলেও কিছু বিরল প্রজাতির পাখির তথ্য এখনও অনুপস্থিত রয়েছে বার্ডবেসে। ডেটাবেজটি বর্তমানে বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় খুব সহজেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। যে কারণে যে কেও চাইলেই এখন নিজের আশপাশের এলাকার কেনো কোন পাখি অন্যদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাও জানতে পারবেন। পাখির ভিন্ন আচরণ তাদের বেঁচে থাকাকে কীভাবে প্রভাবিত করে কিংবা পাখিগুলোর আবাসস্থল হারানোর কতোটা ঝুঁকি রয়েছে, তাও জানা সম্ভব হবে।
বার্ডবেসের তথ্যমতে, ফল খাওয়া অনেক পাখি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বীজ বিতরণকারীই হলো এই ফল খাওয়া পাখি। কিছু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনে ৯০ শতাংশের বেশি কাষ্ঠল উদ্ভিদের বীজ এইসব পাখির মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে। তারা ফল খেয়ে বীজ অন্য কোথাও মলত্যাগের মাধ্যমেই ফেলে দেয়। আর সেই বীজ থেকেই তখন জন্মায় গাছ। তথ্যসূত্র : আর্থ ডটকম।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org