The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বের যেসব দেশে রয়েছে আজব সব আইন!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নাগরিকদের আচরণ ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নানা রকম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এসব আইনের মধ্যে কিছু আইন এতটাই অদ্ভুত বা অযৌক্তিক মনে হয় যে তা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। আধুনিক যুগেও এই ধরনের আইন অনেক দেশে বিদ্যমান, যা মানুষের কৌতূহল এবং বিস্ময় দুটোই কাজ করে।

বিশ্বের যেসব দেশে রয়েছে আজব সব আইন! 1

সিঙ্গাপুর

প্রথমেই বলা যায় সিঙ্গাপুরের কথা। দেশটি পরিচ্ছন্নতার জন্য বিখ্যাত, কিন্তু সেখানে চুইংগাম চিবানো নিষিদ্ধ! ১৯৯২ সালে সরকার এই আইন চালু করে, কারণ নাগরিকরা রাস্তায় চুইংগাম ফেলে শহর নোংরা করছিল। এখন সেখানে চুইংগাম বিক্রি বা আমদানি করাও বেআইনি।

সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডে রাতে টয়লেট ফ্লাশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—বিশেষ করে রাত ১০টার পর। প্রতিবেশীর শান্তি রক্ষায় এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া সেখানে রবিবারে লন কাটাও নিষিদ্ধ, কারণ রবিবারকে “নীরবতার দিন” হিসেবে গণ্য করা হয়।

জাপান

জাপানেও একটি অদ্ভুত আইন রয়েছে—সেখানে স্থূলতা সীমা নির্ধারণ করা আছে। ৪০ বছর বয়সের ওপরে পুরুষদের কোমরের মাপ ৩৩.৫ ইঞ্চি এবং নারীদের ৩৪.৫ ইঞ্চির বেশি হলে তা “অবৈধ স্থূলতা” হিসেবে গণ্য হয়। এই আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের শারীরিক পরিমাপ পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

ইতালি

ইতালির ছোট শহর ইবোলে চুমু খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যদি আপনি গাড়ি চালানোর সময় তা করেন! নিরাপত্তার কারণে এই আইন করা হয়েছে, তবে অনেকে এটিকে হাস্যকর মনে করেন।

ডেনমার্ক

ডেনমার্কে আরেকটি মজার আইন হলো—যদি গাড়ির নিচে কেউ থাকে, তবে গাড়ি চালানো যাবে না। যদিও বিষয়টি বাস্তবে প্রযোজ্য নয়, তবু আইনটি এখনো বহাল আছে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় মজার একটি আইন হলো—আপনি যদি ৫০ কেজির বেশি আলু নিজের কাছে রাখেন, তা বেআইনি! কারণ আলু উৎপাদনের ওপর সেখানকার একটি বিশেষ কর্তৃপক্ষের একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

গ্রিস

গ্রিসে ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হাই হিল পরা নিষিদ্ধ। কর্তৃপক্ষের দাবি, হাই হিল প্রাচীন স্থাপত্যের মেঝে নষ্ট করে দেয়। তাই যেসব পর্যটক এই আইন না জানেন, তাদের জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডে রাজা বা রাজপরিবারের প্রতি অসম্মান দেখানো কঠোর অপরাধ, এমনকি মুদ্রায় রাজপুত্রের ছবি থাকায় সেটি পায়ে চাপা দিলেও শাস্তি হতে পারে।

তাই বলা যায় যে, এইসব “আজব” আইন কোনো না কোনো সময় সমাজের বাস্তব প্রয়োজন মেটাতে প্রণীত হয়েছিল। যদিও আজ অনেক আইন যুগের পরিবর্তনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, তবুও এইসব আইন আমাদের মনে করিয়ে দেয়- বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি এবং সামাজিক ভাবনার বৈচিত্র্য কত গভীর ও রঙিন ছিলো।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali