দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার ও আত্মীয়তার বন্ধনই তাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রাখে। আত্মীয়স্বজন কেবল রক্তের সম্পর্ক নয়, বরং জীবনের সুখ-দুঃখের সাথীও বটে।

তবে বর্তমান যুগে ব্যস্ততা, স্বার্থবোধ এবং যোগাযোগের অভাবে অনেক সময় এই সম্পর্কগুলোতে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা আমাদের সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যোগাযোগ বজায় রাখা সদ্ভাব রক্ষার সবচেয়ে মৌলিক উপায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ রাখা এখন খুব সহজ। মাঝে মাঝে ফোন করা, বার্তা পাঠানো বা সামাজিক মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া সম্পর্ককে উষ্ণ রাখে। কেউ অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া বা কোনো শুভক্ষণে শুভেচ্ছা জানানো- এসব ছোট ছোট আচরণও সম্পর্ক গভীর করে।
আত্মীয়দের সঙ্গে আচরণে বিনয় ও সম্মান দেখানো প্রয়োজন। বয়সে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। কথা বলার সময় রাগ, অভিমান বা কটূ মন্তব্য পরিহার করা উচিত। মনে রাখতে হবে, সম্পর্কের চেয়ে তর্ক বা অহংকার কখনোই বড় হতে পারে না।
সাহায্য এবং সহযোগিতার মনোভাব আত্মীয়তার সম্পর্কে স্থায়িত্ব আনে। আত্মীয়দের সমস্যার সময় পাশে থাকা, প্রয়োজনে সহায়তা করা বা পরামর্শ দেওয়া শুধু তাদের নয়, নিজের মনকেও পরিতৃপ্ত করে। জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করলে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
অর্থনৈতিক বা সম্পত্তিগত বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আত্মীয়দের সঙ্গে লেনদেন বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় না থাকলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
হিংসা এবং তুলনাবোধ পরিহার করা প্রয়োজন। কারও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে তার অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করা সম্পর্ককে সুন্দর করে তোলে। অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে আত্মতৃপ্ত থাকা উচিত।
এছাড়াও, একসঙ্গে সময় কাটানো সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম উপায়। পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব বা ছুটির দিনে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা বা খাবারের টেবিলে বসে আড্ডা দেওয়া সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। শিশুদেরও ছোটবেলা থেকেই আত্মীয়দের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ দিলে তাদের মধ্যেও পারিবারিক বন্ধনের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে দরকার আন্তরিকতা, সহনশীলতা এবং ভালোবাসা। ক্ষুদ্র ভুল বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে সম্পর্ক রক্ষা করাই মানবিকতার পরিচায়ক। মনে রাখতে হবে, সম্পদ নয়- মানবিক সম্পর্কই জীবনের প্রকৃত সম্পদ। তাই আত্মীয়তার এই বন্ধন টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
I really like reading through a post that can make men and women think. Also, thank you for allowing me to comment!
Learning more about Raising Teens allows families to create an environment that supports learning, play, and emotional development. This connection between family and child shapes a happier and healthier future. When discussing Raising Teens, it’s essential to consider how daily routines and consistent habits shape a child’s future. Parents can play a major role by offering patience, structure, and encouragement that helps their child grow both mentally and emotionally.