দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোলা- স্বাদে তিতা হলেও পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি সবজি। বাংলার রান্নাঘরে পরিচিত এই সবজিটি শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, বহুদিন ধরে লোকজ চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও করোলার নানা স্বাস্থ্যগুণকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে করোলা খেলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হয়।
করোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের করোলা থেকেই দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর বড় অংশ পাওয়া সম্ভব। এই ভিটামিন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং ত্বক সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে।
করোলার সবচেয়ে আলোচিত গুণ হলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতা। করোলায় থাকা ‘চারান্টিন’ নামক একটি উপাদান ইনসুলিনের মতো কাজ করে বলে গবেষণায় জানা গেছে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করোলা বিশেষ উপকারী। নিয়মিত করোলা খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করোলা গ্রহণ করাই নিরাপদ।
এই সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ বা ফাইবার। ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য করোলা একটি আদর্শ সবজি। কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে।
করোলায় ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বিশেষ করে বি৬ ও ফলেট), পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, আর আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও করোলার রয়েছে প্রদাহনাশক ও জীবাণুনাশক গুণ। এটি লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। কিছু গবেষণায় করোলার ক্যানসার প্রতিরোধী সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
করোলা একটি শক্তিশালী পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। স্বাদের তিক্ততা অনেকের কাছে অপছন্দনীয় হলেও এর স্বাস্থ্যগুণ বিবেচনায় খাদ্যতালিকায় নিয়মিত করোলা রাখা নিঃসন্দেহে উপকারী। সঠিকভাবে রান্না করে বা ভাজি, ভর্তা, তরকারি হিসেবে গ্রহণ করলে সহজেই এই সবজির পুষ্টিগুণ থেকে উপকার পাওয়া সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ 5:24 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাজের চাহিদা এবং ধরন বদলানোর সাথে সাথে বর্তমানে একইসাথে অনেকগুলো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ‘হ্যালো বাংলাদেশ, আই ক্যান সি ইউ।’ দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় ফিলিস্তিনিদের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডের একটি দুর্গের কাছে পাওয়া মধ্যযুগীয় একটি কঙ্কাল প্রত্নতাত্ত্বিক ও…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হাইহিল জুতা অনেক নারীর পোশাক এবং ব্যক্তিত্বের অংশ। বিশেষ অনুষ্ঠান,…