The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কালো জিরার গুণাগুণ জেনে নিন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কালো জিরা আমাদের রান্নাঘরের একটি পরিচিত মসলা হলেও এর ঔষধি গুণের জন্য এটি যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কালো জিরার গুণাগুণ জেনে নিন 1

আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও আধুনিক প্রাকৃতিক চিকিৎসায় কালো জিরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ছোট দানাদার এই বীজে লুকিয়ে আছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা, যা শরীর সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কালো জিরায় রয়েছে থাইমোকুইনোনসহ নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে। নিয়মিত কালো জিরা গ্রহণ করলে সর্দি-কাশি, জ্বর এবং অ্যালার্জিজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমে।

হজমশক্তি উন্নত করতেও কালো জিরা অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং গ্যাস, বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। খালি পেটে অল্প পরিমাণ কালো জিরা বা কালো জিরার পানি পান করলে অনেকেই হজমজনিত সমস্যায় উপকার পান।

কালো জিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরিমিত পরিমাণে কালো জিরা উপকারী হতে পারে। তবে ওষুধের পাশাপাশি এটি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কালো জিরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। পাশাপাশি কালো জিরা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

ত্বক এবং চুলের যত্নেও কালো জিরার ব্যবহার জনপ্রিয়। কালো জিরার তেল ত্বকের শুষ্কতা কমায়, ব্রণ ও ফুসকুড়ি প্রতিরোধে সাহায্য করে। চুলের গোড়া মজবুত করতে ও চুল পড়া কমাতে কালো জিরার তেল কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়াও কালো জিরা প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সহায়ক। বাত, জয়েন্টের ব্যথা কিংবা পেশির ব্যথায় এটি উপকার দিতে পারে। কিছু গবেষণায় ক্যান্সার প্রতিরোধে কালো জিরার সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কালো জিরা একটি প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর উপাদান। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণে কালো জিরা গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এবং উপকারী।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali