দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ট্রোক একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল হঠাৎ ব্যাহত হলে ঘটে। এটি প্রধানত দুই ধরনের- ইসকেমিক (রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া) ও হেমোরেজিক (রক্তনালী ফেটে যাওয়া)।

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে স্ট্রোক পরিচিত। তবে সচেতনতা ও জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি কমানো যায়। একইভাবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সচেতন থাকতে হবে, কারণ অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করা মস্তিষ্কের রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপ শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এতে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমে, যা স্ট্রোকের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়, যা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। একইভাবে, অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়িয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো উচিত।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অপরিহার্য। অনেক সময় স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণগুলো প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে না। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে আগেভাগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সচেতন জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই পারে এই মারাত্মক রোগ থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org