দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মলা মাছ বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরে সহজলভ্য একটি ছোট মাছ। দেখতে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

অনেকেই বড় মাছের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকেন, কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে মলা মাছ নিয়মিত খেলে শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাদ্য।
মলা মাছের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। প্রোটিন শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, কিশোরদের বিকাশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি, আর মলা মাছ সেই চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
এ ছাড়াও মলা মাছে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। এই ভিটামিন চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে রাতকানা রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন এ খুবই কার্যকর। যাদের চোখে সমস্যা রয়েছে বা কম আলোতে দেখতে কষ্ট হয়, তাদের জন্য মলা মাছ একটি ভালো খাদ্য উৎস হতে পারে।
মলা মাছে আয়রনও ভালো পরিমাণে থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। আয়রনের অভাবে শরীরে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। নিয়মিত মলা মাছ খেলে এই সমস্যা কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। শিশু ও বয়স্কদের হাড়ের দুর্বলতা প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মলা মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
মলা মাছ সহজে হজম হয়, কারণ এটি ছোট ও নরম মাছ। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে বা বয়স্ক মানুষ, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত খাবার। তাছাড়া এতে তেল কম ব্যবহার করেও রান্না করা যায়, ফলে এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর।
অপরদিকে, মলা মাছ পরিবেশবান্ধব ও সহজে পাওয়া যায়। এটি বড় মাছের তুলনায় কম খরচে পাওয়া যায়, তাই নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস।
মলা মাছ একটি ছোট হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী পুষ্টিকর খাদ্য। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের বৃদ্ধি, চোখের স্বাস্থ্য, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ এবং হাড়ের শক্তি বজায় রাখা সহজ হয়। তাই সুস্থ ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মলা মাছ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org