দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকলে তা শুধু অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ায়।

অনেকেই বিষয়টি অবহেলা করেন, ফলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়- যা পরে জটিল আকার নিতে পারে। তাই এই মৌসুমে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ঘাম নিজে ক্ষতিকর নয়, তবে ঘামের সঙ্গে শরীরের ময়লা, ব্যাকটেরিয়া ও মৃত কোষ মিশে গেলে তা জীবাণুর বংশবিস্তার ঘটায়। ভেজা কাপড় দীর্ঘ সময় শরীরে লেগে থাকলে আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যা জীবাণুর জন্য আদর্শ। এর ফলে চুলকানি, র্যাশ, ফুসকুড়ি কিংবা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ হতে পারে, যেমন দাদ বা অ্যাথলিটস ফুট।
বিশেষ করে যাদের শরীরে বেশি ঘাম হয় বা যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। একই পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকা, ভেজা জামা না বদলানো কিংবা সঠিকভাবে শরীর পরিষ্কার না করা- এইসব অভ্যাস সংক্রমণকে দ্রুত বাড়িয়ে তোলে।
নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রথমত, প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুইবার গোসল করা উচিত। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই গোসল করে নিতে হবে, যাতে শরীরের ঘাম ও জীবাণু দূর হয়। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
ঘামে ভেজা পোশাক দ্রুত বদলানো জরুরি। বিশেষ করে অন্তর্বাস, মোজা বা জিমের পোশাক দীর্ঘ সময় ভেজা রাখা উচিত নয়। পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় পরলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
ঢিলেঢালা ও সুতির পোশাক পরা উচিত। সুতির কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং ত্বককে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। সিনথেটিক বা আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে ঘাম আটকে থাকে।
শরীরের যে অংশগুলো বেশি ঘামে- যেমন বগল, ঘাড়, কুঁচকি- সেগুলো পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। প্রয়োজনে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে, যা আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও নিজের ব্যবহৃত তোয়ালে, জামাকাপড় বা ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়াতে পারে।
গরমের সময় ঘাম এড়ানো সম্ভব নয়, তবে সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এর ক্ষতিকর দিক থেকে সহজেই নিজেকে রক্ষা করা যায়। সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও স্বস্তিতে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org