দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অনেক মানুষ প্রতিদিন একই রুটিনে জীবন কাটান। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, কাজ, খাবার ও বিশ্রাম- সবকিছু একই নিয়মে চলে।

এটি একদিকে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করে, আবার অন্যদিকে অতিরিক্ত একঘেয়েমিও তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রুটিন মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে তোলে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ও খাবার শরীরের জৈবঘড়িকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এতে শারীরিক সুস্থতাও বজায় থাকে।
কাজের ক্ষেত্রেও রুটিন গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে সময় নষ্ট কম হয় এবং কাজের চাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সবসময় একই রুটিনে চলতে থাকলে জীবনে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। এতে সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে এবং মানসিক ক্লান্তিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে রুটিনের বাইরে কিছু করা প্রয়োজন। নতুন কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, নতুন শখ তৈরি করা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক সতেজতা বাড়াতে পারে।
অনেকেই ছুটির দিনেও একই কাজ করতে থাকেন। এতে শরীর বিশ্রাম পেলেও মন পুরোপুরি প্রশান্তি পায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনকে উপভোগ করার জন্য রুটিনের পাশাপাশি আনন্দ ও বৈচিত্র্যও প্রয়োজন। প্রতিদিন ছোট ছোট পরিবর্তন মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়ম ও স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org