দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নতুন স্কুলব্যাগ এবং শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের লালখান বাজারের রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস’ হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ব্যাগ এবং শিক্ষা উপকরণ হাতে পাওয়ায় অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও উৎসাহের মুহূর্ত।
আনন্দঘন এই আয়োজনের পেছনে ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রাম এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। ‘স্মার্ট স্টুডেন্টস’ ফাইন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী এবং সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা গড়ে তুলতেও কাজ করছে এই প্রোগ্রামটি।
অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদস্যরা। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজন। ছিল প্রাণবন্ত এক আলোচনা পর্বও। সেখানে উঠে আসে মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব এবং সফল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নানা সুযোগ এবং সম্ভাবনার কথা।
আলোচনা পর্বে রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস’ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত কমিউনিকেটিভ ইংলিশ কোর্সের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সভায় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিক্ষা সঞ্চয় এবং শিক্ষা বীমার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রকিবুল করিম,এফসিএ, বলেন, “শিক্ষা তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাস দেয় এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করে। আগামী প্রজন্মকে তাদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে এবং তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করার এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।”
এই উদ্যোগ শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘স্মার্ট স্টুডেন্টস’ ফাইন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় গার্ডিয়ান এবং ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এখন পর্যন্ত দেশের ৭১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০টি স্কুলব্যাগ এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইডিয়াল স্কুল, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর হাই স্কুল, চাঁদপুরের হামানকর্দ্দি পল্লী মঙ্গল উচ্চবিদ্যালয়, নোয়াখালীর আহামদিয়া আদর্শ হাই স্কুল, চট্টগ্রামের রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস’ হাই স্কুল এবং একই বিভাগের ফটিকছড়ি উপজেলার আমজাদ আলী আবদুল হাদি ইনস্টিটিউট।
সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার থেকে শিক্ষা, আর্থিক সচেতনতা এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org