The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৩৭০০ বছরের পুরোনো আচারস্থল আবিষ্কার করলেন এক শিক্ষার্থী!

একটি পাথর দেখে রহস্যের শুরু

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কখনও কখনও বড় প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের শুরু হয় অত্যন্ত সাধারণ একটি পর্যবেক্ষণ থেকে। ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে।

৩৭০০ বছরের পুরোনো আচারস্থল আবিষ্কার করলেন এক শিক্ষার্থী! 1

একটি পাথর দেখে একজন শিক্ষার্থীর মনে সন্দেহ জাগে- এটি কি কোনো প্রাচীন পাথরবৃত্তের অংশ? সেই কৌতূহল থেকেই শেষ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৩৭০০ বছর পুরোনো একটি ব্রোঞ্জ যুগের আচারস্থলের ধ্বংসাবশেষ।

জর্জ বার্ড নামের ওই শিক্ষার্থী ২০২৪ সালে ফরেস্ট এলাকায় থাকা একটি প্রায় ছয় ফুট উঁচু পাথরের প্রতি বিশেষ নজর দেন। তার ধারণা হয়, পাথরটি হয়তো বিচ্ছিন্ন কোনো প্রাকৃতিক শিলা নয়; বরং কোনো প্রাচীন আনুষ্ঠানিক স্থাপনার অংশ হতে পারে। পরে Forestry England ও Time Team-এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান শুরু হয়। খননের পর সেখানে আরও কয়েকটি পাথরের অবস্থান ও একটি প্রাচীন কাঠামোর চিহ্ন পাওয়া যায়।

রেডিওকার্বন ডেটিংয়ের ভিত্তিতে স্থাপনাটির সময়কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ সালের কাছাকাছি। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৩৭০০ বছর আগে এই জায়গাটি মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, স্থাপনাটি একটি প্রাকৃতিক ঝরনা কিংবা জলস্রোতের কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, পানি এই প্রাচীন মানুষের ধর্মীয় বা আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত হতে পারে।

খননে একটি পাথরের প্ল্যাটফর্মের মতো কাঠামোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি পাথরের সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো মিলিয়ে একটি ডিম্বাকৃতির পাথরবেষ্টনী তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো কাঠামোটির আয়তন আনুমানিক ৮২ বাই ৭৫ ফুট।

প্রাচীন মানুষের কাছে জলাশয়, ঝরনা এবং নদী শুধু পানির উৎস ছিল না। অনেক সংস্কৃতিতে পানি পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জন্ম, মৃত্যু, উৎসব কিংবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে জলাশয়ের সম্পর্ক ছিল। ডার্বিশায়ারের এই স্থাপনাও এমন কোনো বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি-না, সেটিই এখন গবেষকদের অন্যতম প্রশ্ন।

এই আবিষ্কার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে- আধুনিক বনভূমির নিচে কিংবা গাছপালার আড়ালে প্রাচীন স্থাপনা লুকিয়ে থাকতে পারে। শত শত বছর ধরে মাটি, গাছের শিকড় এবং প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে এসব স্থাপনার অধিকাংশই দৃশ্যমান থাকে না।

অতীতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনেক সময় পুরোনো মানচিত্র, ঐতিহাসিক নথি কিংবা দৃশ্যমান স্থাপনা অনুসরণ করতেন। এখন ড্রোন, ভূ-ভৌতিক জরিপ, লিডার এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের মানচিত্র প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো একজন শিক্ষার্থীর কৌতূহল। তিনি বিশেষজ্ঞ প্রত্নতাত্ত্বিক ছিলেন না। তবে একটি অস্বাভাবিক পাথরকে সাধারণভাবে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই প্রশ্নই পরবর্তীতে একটি ৩৭০০ বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান দেয়।

এখন গবেষকরা এলাকাটির আরও অনুসন্ধান করছেন। সেখানে কী ধরনের মানুষ বসবাস করত, কতদিন ধরে জায়গাটি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পাথরবেষ্টনীতে কী ধরনের আচার পালিত হতো- এইসব জানার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইতিহাস সবসময় বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। কখনও কখনও একটি পাথর, একটি মাটির স্তর বা বনের ভেতরে অস্বাভাবিক একটি উঁচু জায়গাই হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার দরজাও খুলে দিতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali