দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কখনও কখনও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ আকাশে এমন এক রঙিন আলোর দৃশ্য দেখতে পান, যা প্রথম নজরে আগুনের শিখা বা ভাসমান রঙধনুর মতো মনে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়লে অনেকে একে ভিনগ্রহের সংকেত, অলৌকিক ঘটনা বা অজানা শক্তির প্রকাশ বলে মনে করেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পেছনে ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম বরফকণার মধ্যে।
উচ্চ স্তরের মেঘে থাকা ক্ষুদ্র ষড়ভুজাকৃতির বরফ স্ফটিকের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত ও প্রতিফলিত হলে বিশেষ কোণে নানা রঙের আলোকবলয় বা আলোর স্তম্ভ তৈরি হতে পারে। কখনো সূর্যের দুই পাশে উজ্জ্বল আলোর বিন্দু দেখা যায়, আবার কখনো মনে হয় যেন আকাশে আগুনের মতো রঙিন শিখা জ্বলছে।
এই দৃশ্য সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া, সূর্যের অবস্থান এবং বরফকণার বিন্যাসের ওপর এর সৌন্দর্য নির্ভর করে। তাই একই জায়গায় প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখা যায় না।
আলোকবিজ্ঞানীরা বলেন, এই ঘটনাগুলো প্রকৃতির অত্যন্ত সুন্দর অপটিক্যাল বিভ্রম। এগুলো মানুষের চোখে বিস্ময় সৃষ্টি করলেও এর পেছনে রয়েছে আলোর স্বাভাবিক পদার্থবিজ্ঞান। তবে বিরল হওয়ার কারণে এগুলো প্রত্যক্ষ করার সুযোগ সবার ভাগ্যে জোটে না।
বিশ্বজুড়ে অনেক আলোকচিত্রী ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষক এমন দৃশ্য ধারণের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে উপস্থিত থাকলে ক্যামেরায় ধরা পড়ে অসাধারণ রঙিন আলোর খেলা, যা পরে গবেষণার উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
আকাশের এই বিস্ময় আমাদের শেখায় যে, প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেক সময় বৈজ্ঞানিক নিয়মের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। রহস্যময় মনে হলেও সূর্যের আলো আর বরফের সূক্ষ্ম স্ফটিক মিলে হয়তো সৃষ্টি করতে পারে অবিশ্বাস্য এক শিল্পকর্ম।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org