দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণী নিয়ে গবেষণা হলেও বড় আকারের নতুন স্তন্যপায়ী প্রাণী আবিষ্কার এখন অত্যন্ত বিরল বলা যায়। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ বড় প্রাণী ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীদের পরিচিত।

তাই আফ্রিকার গভীর জঙ্গলে নতুন এক প্রজাতির বানর শনাক্ত হওয়ার খবর বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহও তৈরি করেছে।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের গভীর অরণ্যে পাওয়া এই বানরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো তার উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁট। শরীরের বেশির ভাগ অংশ কালো লোমে ঢাকা। মুখের গঠনও অন্য অনেক কলবাস বানরের তুলনায় আলাদা। শুধু চেহারাই নয়, তার ডাকও অস্বাভাবিক- গবেষকরা গভীর গর্জন ও নাক দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের শব্দের কথা জানিয়েছেন।
নতুন এই প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Colobus congoensis। স্থানীয় বালাঙ্গা জনগোষ্ঠী একে ‘Likweli’ নামে ডাকে। ২০০৮ সালে সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম প্রাণীটির দেখা পেয়েছিলেন। তবে তখন পাওয়া ছবিতে প্রাণীটির মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। যে কারণে এটি আগে পরিচিত কোনো বানরের ভিন্ন রূপ, নাকি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি- তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময় ২০১৮ হতে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ ও জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।
ডিএনএ বিশ্লেষণ দেখিয়েছে যে, প্রাণীটি অন্য পরিচিত কলবাস বানর হতে আলাদা। গবেষকদের ধারণা, এর সবচেয়ে কাছের আত্মীয় ব্ল্যাক কলবাস বানর থেকে এটি প্রায় ৫০ লাখ বছর পূর্বে আলাদা বিবর্তনীয় পথে চলে যায়। অর্থাৎ প্রাণীটি আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে নতুন হলেও প্রকৃতিতে এটি বহু লক্ষ বছর ধরে নিজস্ব বিবর্তনীয় ইতিহাস নিয়ে টিকে রয়েছে।
এই আবিষ্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বিরলতা। গত প্রায় ৭৫ বছরে আফ্রিকায় নতুন প্রজাতির বানর আবিষ্কারের সংখ্যা খুবই কম। সেই তালিকায় Colobus congoensis-এর অন্তর্ভুক্তি প্রাইমেট গবেষণায় বড় ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগও। গবেষকরা মনে করছেন, প্রাণীটির বিস্তৃতি খুব সীমিত হতে পারে। বন উজাড়, শিকার ও মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। তাই গবেষকরা এটিকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবেই বিবেচনার সুপারিশ করেছেন।
এই আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশ এখনও মানুষের সম্পূর্ণ পরিচিত নয়। গভীর অরণ্য, সমুদ্রের তলদেশ বা দুর্গম পাহাড়ে এমন আরও প্রাণী থাকতে পারে, যাদের বিজ্ঞান এখনও কোনো নাম দেয়নি।
বিশেষ করে কঙ্গোর মতো বিশাল এবং ঘন অরণ্য জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে নতুন বানর আবিষ্কার শুধু প্রাণিবিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়ই নয়, বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তারও শক্তিশালী বার্তা। কারণ হলো কোনো প্রজাতি বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন আবিষ্কার হওয়ার পূর্বেই হয়তো তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে গেছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org