দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমাজনকে দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক বনভূমি হিসেবে দেখা হয়েছে। ঘন গাছপালা, নদী, জলাভূমি এবং দুর্গম পরিবেশের কারণে এই অঞ্চলের অতীত সভ্যতা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান দীর্ঘদিন সীমিত ছিল।

তবে সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা সেই ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষকরা আমাজন অঞ্চলে শত শত অজানা প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান পেয়েছেন, যা একটি সুসংগঠিত প্রাক-কলম্বীয় সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে। অত্যাধুনিক লিডার কিংবা লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘন বনভূমির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব কাঠামো শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় মোট ৪৩২টি জিওগ্লিফ কিংবা বিশাল মানবনির্মিত ভূমি-নকশা শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৪০০টি আগে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল।
এই আবিষ্কারের সঙ্গে ‘Aquiry’ নামে একটি প্রাচীন সভ্যতার সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এই সভ্যতার সময়কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সাল হতে খ্রিস্টীয় ৮৫০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এইসব স্থাপনা বিচ্ছিন্ন কোনো ছোট জনগোষ্ঠীর কাজ বলে মনে হচ্ছে না। গবেষণায় এমন রাস্তার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যেগুলো বিভিন্ন বসতিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করতো। কিছু স্থাপনা ছিল জ্যামিতিক আকারের, আবার কিছু ছিল ধর্মীয় কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত বিশাল ঘের কিংবা কাঠামো।
গবেষকরা অনুমান করছেন যে, এই সভ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশের সময় জনসংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে থাকতে পারে। অবশ্য এই জনসংখ্যার হিসাব এখনও গবেষণাধীন ও ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
আবিষ্কারটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- এই মানুষগুলো আমাজনের পরিবেশকে পুরোপুরি ধ্বংস না করেই কৃষি এবং বসতি স্থাপন করতে পেরেছিল বলে গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করছে। তারা ভুট্টা এবং মানিহকের মতো ফসল উৎপাদন করত ও একই সঙ্গে বনভূমির সঙ্গে একটি জটিল সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।
এখানে লিডার প্রযুক্তির ভূমিকা অসাধারণ। বিমান কিংবা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে লেজার রশ্মি পাঠিয়ে ভূমির উচ্চতার অত্যন্ত সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গাছপালার স্তর অতিক্রম করে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করলে মাটির নিচে নয়, বরং গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন রাস্তা, বাঁধ, ঘের, বসতি এবং জিওগ্লিফ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
যে কারণে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বুঝতে পারছেন, আমাজন সবসময় মানুষের স্পর্শহীন ‘অক্ষত বন’ ছিল- এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং হাজার বছর ধরে মানুষ এখানে বসবাস করেছে, কৃষিকাজ করেছে, রাস্তা তৈরি করেছে ও জটিল সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।
এই আবিষ্কার আমাজনের ইতিহাসের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। অতীতে মানুষ কীভাবে বিশাল বনভূমিতে বসবাস করেও পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছিল, সেটি বর্তমান বিশ্বের জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।
অর্থাৎ, আজকের স্যাটেলাইট এবং লিডার প্রযুক্তি শুধু হারিয়ে যাওয়া শহর খুঁজে দিচ্ছে না; এটি আমাজন সম্পর্কে মানুষের বহু পুরোনো ধারণাকেও বদলে দিচ্ছে। ঘন সবুজ বনের নিচে লুকিয়ে থাকা এই সভ্যতার আরও কত রহস্য এখনও অজানা, সেটিই হতে পারে ভবিষ্যৎ গবেষণার সবচেয়ে বড় একটি প্রশ্ন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org