বাজেট আসার আগেই জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে নানা সংশয়!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ বাজেট আসন্ন। আজ ২৭ মে সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। জুনে বাজেট পেশ করা হবে। তারপর সাধারণ আলোচনার পর ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস হবে। কিন্তু বাজেট অধিবেশন শুরু হতে না হতেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।

পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে কিছুটা সরকার বিব্রত। বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার প্রায় মিলে যাওয়ায় ভিন্ন উপায় খুঁজছেন তারা। যে কারণে ২১ মে পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লেখা এক চিঠিতে তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তার তুলনায় দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও এডিবি যে পূর্বাভাস দিয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল, প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের এই পূর্বাভাস নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত হার না হওয়ার কারণ হিসেবে বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চলতি বছরে আউশ, আমন ও গমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় তেমন বেশি হয়নি। এর পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পখাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়নি। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতে অগ্রগতি না হওয়া, রফতানির প্রবৃদ্ধির হার ও সরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিম্নগতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এদিকে ২১ মে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব রীতি ইব্রাহীম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করার জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, বিআইডিএস, জিইডি ও সিপিডি বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকে। এছাড়াও দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি এ বিষয় তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে এটি সমন্বয়ের প্রয়োজন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ ব্যবহারকারীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হলে ওই কমিটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকাশ করার জন্য সূচক তৈরি ও উৎসের বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে পারবে।

এদিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে যদি এমন বেহাল অবস্থা হয় তাহলে আসছে বাজেটের ওপর এর একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা মনে করেন, বিষয়টি এখনই সুরাহা হওয়া দরকার। তানাহলে আসছে বাজেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া বৈদেশিক সাহায্য এর ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। এ বিষয়ে কথা হয় একজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন, আসলে এটা নির্ভর করছে সরকার তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর। বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য উৎপাদনে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তাতে করে জিডিপির ওপর একটা প্রভাব পড়তে পারেই। সরকার এ বিষয়গুলোর দিকে নজন দিলে হয়তো এমনটা হতো না। তবে এখনও সরকারের কাছে পথ খোলা আছে বলে তিনি মনে করেন। ওই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, আমাদের ধারণা রপ্তানি পণ্যগুলো যাতে সঠিকভাবে রপ্তানি করা সম্ভব হয় তা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণলায়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ রপ্তানির ওপরও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়টি অনেকটা নির্ভরশীল। তাই সব বিষয়ে ভেবে চিন্তে সরকারকে এগুতে হবে। তা নাহলে আসছে বাজেটে এর প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...