সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্যকথা (১৯-২-১৩)

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেকেই অজ্ঞ। কিভাবে চললে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা অতি জরুরি। আর তাই মানব স্বাস্থ্যের নানা শর্ট নিউজ নিয়ে আমাদের আয়োজন সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্যকথা। আশা করি ছোট ছোট এসব স্বাস্থ্য ট্রিপস্‌ পড়ে সকলেই উপকৃত হবেন।
শশা
ওজন কমানোর জন্য শশা খুবই উপকারী

প্রচলিত আছে শসা, খিরাই, গাজর ইত্যাদি খেলে ওজন কমে। অনেকে মনে করেন এগুলো এক ধরনের ওষুধের মতো কাজ করে। তাই ভরপেট খাবার খেয়ে একটু শসা খেয়ে নেন। অনেকে আবার সালাদ তৈরি করে ভাতের সঙ্গে খান এবং মজা পেয়ে ভাতও একটু বেশি খেয়ে নেন। আসলে এসব সবজির মধ্যে বিশেষ কিছু নেই যা দেহের চর্বি কমাতে পারে। বরং এগুলো খুব কম ক্যালরিযুক্ত খাবার। এতে বেশি পরিমাণে পানি থাকে আর থাকে কিছু আঁশ এবং খনিজ। কেউ যদি যে কোনও সবজি বেশি খেয়ে ভাত কম খান, তবেই তার ওজন কমতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো উপায় হলো দুপুরে বা রাতে প্রধান খাবারের শুরুতেই কিছু লো ক্যালরির খাবার খেয়ে নেওয়া। সেটা হতে পারে শসা বা যে কোনও সালাদ অথবা শাক-সবজি। এ ধরনের খাবার বেশি খেলে শুধু ওজনই কমবে না, পাওয়া যাবে আঁশ, দরকারি খনিজ এবং এন্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন।

কোমর ব্যথার চিকিৎসা ও পরামর্শ

বার্ধ্যক্যজনিত বয়সে কোমর ব্যথার প্রধান কারণ হচ্ছে কোমরের হাড় ও ইন্টারভার্টিক্যাল ডিস্কের ক্ষয় এবং কোমরের মাংসপেশির দুর্বলতা। কোমর ব্যথার রোগগুলোকে আমরা, লো-ব্যাক পেইন-লাম্বার স্পান্ডাইলোসিস-প্রোলাপস্‌ ডিস্ক ইত্যাদি রোগ বলে থাকি। এ রোগের কারণ, প্রক্রিয়া ও চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ঘাড় ব্যথা বা সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের অনুরূপ। তবে রোগীর শরীরের অবস্থান-পোশ্চার সঠিকভাবে রক্ষার গুরুত্ব দিলে অনেক ক্ষেত্রে কোমরের ব্যথা এড়ানো সম্ভব। শক্ত বিছানায় শোয়া, কাত হয়ে বিছানায় শুতে যাওয়া, ওঠা, ভারী জিনিস বহন বা তোলা পরিহার করা, নিয়মিত কোমরের ব্যায়াম করা এবং অসমতল যায়গায় চলাচল না করা ইত্যাদি।

কোমরের ব্যায়ামের ভেতরে উল্লেখযোগ্য চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পিঠ দিয়ে বিছানায় চাপ দেয়া, একই অবস্থায় শুয়ে হাঁটু একত্রে এপাশ ওপাশ চাপ দেয়া, একই অবস্থায় শুয়ে এক পা এক পা করে হাঁটু ভাঁজ করে পেটের সঙ্গে চাপ দেয়া ইত্যাদি। কোমরের ব্যথার রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধের সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ মোতাবেক শর্টওয়েভ, আলট্রাসাউন্ড, আই,এফটি কোমরের ব্যায়াম ও হাইড্রোথেরাপি অর্থাৎ পানিতে সাঁতার কাটলে উপকার পেতে পারেন।

ঘাড়ে ব্যথা, চিকিৎসা ও পরামর্শ

ঘাড়ের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মূলত ঘাড়ের মেরুদণ্ডে যে হাড় ও জয়েন্ট আছে তা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে। ফলে তার লিগামেন্টগুলো মোটা ও শক্ত হয়ে যায় এবং দুইটি হাড়ের মাঝে যে ডিস্ক থাকে তার উচ্চতা কমে এবং সরু হওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন এ ব্যথা অব্যাহত থাকলে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের বিকৃতি বা স্পাইরাল ডিফারমিটি দেখা দিতে পারে। এ সব সমস্যাকে প্রকার ভেদে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়, যেমন- সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসথোসিস, সারভাইক্যাল রিব, স্টিফ নেক, সারভাইক্যাল ইনজুরি ইত্যাদি।
চিকিৎসা : এ রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্য হল ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। ঘাড়ের মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধি করা, ঘাড় বা বা স্পাইনের সঠিক পজিশন বা অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া এবং যেসব কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং উপদেশ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করা।
ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এসব রোগে অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে পদ্ধতিগত ব্যায়াম যেমন- হাত দিয়ে মাথায় বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে ঘাড়ের মাংশপেশি শক্ত করে, দুই কাঁধ একত্রে উপরে উঠানো, হালকা বালিশ ব্যবহার করা ইত্যাদি। ফিজিওথেরাপিতে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে হিট চিকিৎসা, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, মেনিপুলেশন এবং প্রয়োজন হলে ট্রাকশন এ রোগের উপকারে আসে। ঘাড়কে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া থেকে বিরত এবং সাপোর্ট দেয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল কলার ও মাথার নিচে হালকা নরম বালিশ ব্যবহার করা হয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...