হাজার বছর ধরে নারীদের প্রবেশ নিষেধ এমন এক দ্বীপের গল্প!

একটি দ্বীপ হলো ওকিনোশিমা দ্বীপ, যেখানে নারীদের প্রবেশ নিষেধ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজ এমন এক দ্বীপের গল্প রয়েছে যে দ্বীপে নারীদের প্রবেশ নিষেধ! জাপান এবং কোরিয়ার ঠিক মাঝামাঝি সাগরের একটি দ্বীপ হলো এই ওকিনোশিমা দ্বীপ, যেখানে নারীদের প্রবেশ নিষেধ।

জাপান একটি কৌতূহল উদ্দীপক একটা দেশি হিসেবে পরিচিত। জাপানের রয়েছে প্রাচীন সব নানা ইতিহাস, সামুরাই যোদ্ধা ও গেইশা গার্লদের ঐতিহ্যর মতো নানা ঐতিহ্য। জাপানের একটি দ্বীপ বিশেষ মনোযোগের দাবিদার রাখে। জাপান এবং কোরিয়ার ঠিক মাঝামাঝি সাগরে একটি দ্বীপ হলো ওকিনোশিমা, এই দ্বীপে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

জানা গেছে, জাপানের এই দ্বীপটিতে এখনও তাদের প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস সিন্টো খুব কড়াভাবেই পালন করা হয়ে থাকে। আর সেই ধর্মবিশ্বাস মতে, এই দ্বীপে কোনো নারীর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। পুরো দ্বীপটাকেই তারা একটি ধর্মীয় মন্দিরের মতোই মনে করে। আরা তাই সেভাবেই দ্বীপের পুরুষরা চলাফেরা করে। বছরে একটা দিন তারা জাপানি ছাড়া অন্য কোনো জাতিকে দ্বীপে প্রবেশে অনুমতি দেয় এবং সেটি হলো ২৭ মে। তাছাড়া অন্য দিনগুলোতে এই দ্বীপে শুধুমাত্র জাপানি পুরুষরাই যেতে পারেন।

আবার এই দ্বীপে যাওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু শর্তও রয়েছে। দ্বীপের ভেতরে প্রবেশ করার পূর্বে বিভিন্ন রকম রীতিনীতি পালন করে নিজেকে শুদ্ধ প্রমাণ করে তার পরই যাওয়া যায় সেখানে। জাপান এবং কোরিয়ার সমুদ্রপথের মাঝামাঝি হওয়ায় প্রায় হাজার বছর ধরে এই দ্বীপটিতে সমুদ্রের নাবিক ও যাত্রীরা যাত্রা বিরতি ঘটিয়ে তাদের পূজা দিয়ে যেতো। এই সময় তারা নিবেদন হিসেবে তরবারি, ড্যাগার, ছোট পাথরের গোলক ইত্যাদি মন্দিরে তারা জমা দিতো। প্রায় হাজার বছর ধরে এইসব জিনিস জমা হতে হতে দ্বীপে এসবের বিশাল একটি সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে। প্রাচীনত্ব ও ইতিহাসে সেগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বের জন্য ইউনেস্কো এই দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা দেবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সময় বদলে গেলেও দ্বীপের মানুষের মানসিকতা কিংবা দ্বীপের রীতিনীতি আজও বদলায়নি। তাই এখনও এই দ্বীপে কোনো নারী প্রবেশ করে না, ভবিষ্যতেও কোন নারীকে এই দ্বীপে প্রবেশ করতে দেবে এমন সম্ভাবনাও একেবারেই নেই। কেনো এই নিয়মের শুরু হয়েছিল সেটা হারিয়ে গেছে ইতিহাসের অতল গহ্বরে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...