দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে সাইবার হামলার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যও এখন হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো “জিরো ট্রাস্ট সিকিউরিটি” নামে একটি নতুন নিরাপত্তা পদ্ধতি জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যবহারকারী বা ডিভাইসকে সহজে বিশ্বাস করা হয় না। প্রতিটি ধাপে পরিচয় যাচাই করা হয়। এর ফলে হ্যাকারদের জন্য সিস্টেমে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও এখন সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এআই প্রযুক্তি সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। কোনো অস্বাভাবিক লগইন বা ডেটা চুরির চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে র্যানসমওয়্যার হামলা বিশ্বজুড়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের তথ্য এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ক্লাউড ব্যাকআপ এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে।
এদিকে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, প্রতারণা ও অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি আনা হচ্ছে। অনেক প্ল্যাটফর্ম এখন বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তি নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতনতাও জরুরি। দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কিংবা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করার কারণে অনেক সময় বড় ক্ষতি হয়ে যায়।
বিশ্বের প্রযুক্তি খাত এখন নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করছে। কারণ ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org