দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাম্প্রতিক সময়ে আর্কটিক অঞ্চলের চিরস্থায়ী বরফ (পারমাফ্রস্ট) নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু অণুজীবের সন্ধান পেয়েছেন, যারা হাজার হাজার বছর ধরে বরফের নিচে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।

পরীক্ষাগারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার পর এইসব অণুজীবের একটি অংশ আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা গবেষকদের বিস্মিত করেছে।
পারমাফ্রস্ট হলো এমন মাটি, যা বছরের পর বছর বরফে জমে থাকে। এই বরফের মধ্যে আটকে থাকা অণুজীবগুলো অত্যন্ত কম তাপমাত্রা, অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং খাদ্যের অভাবেও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, এইসব অণুজীব বিশেষ ধরনের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে তারা আবার ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করে। অনেকটা যেন দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো।
এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি কোষ সংরক্ষণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ ভ্রমণে এই জ্ঞান কাজে লাগতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্কও করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলতে থাকায় সেখানে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন অণুজীব পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অধিকাংশ অণুজীব মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবুও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলগুলো শুধু বরফের ভাণ্ডার নয়; এগুলো অতীতের জলবায়ু, পরিবেশ এবং জীবনের ইতিহাস সংরক্ষণ করে রেখেছে। প্রতিটি নতুন গবেষণা সেই ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায় উন্মোচন করছে।
এই বিস্ময়কর আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রকৃতির কাছে এখনও অসংখ্য অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে। আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির যে কারণে মানুষ যত নতুন জায়গায় পৌঁছাচ্ছে, ততই সামনে আসছে এমন সব তথ্য, যা কয়েক বছর আগেও কল্পনার বাইরে ছিল।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org