মিশর পরিস্থিতি ॥ মুরসি কোথায় তা এখনও কেও জানেনা

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বিশ্ববাসী এখনও ধোয়াশার মধ্যে রয়েছে। কারণ সেনা অভ্যুত্থানে মিসরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উচ্ছেদের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মুরসি আসলে কোথায় আছে তা এখনও কেও জানেনা।

Egypt-  murasi

মুরসি সমর্থকদের আন্দোলন-বিক্ষোভ ও তা দমন প্রচেষ্টার কারণে দেশজুড়ে চলছে এক বিশৃঙ্খলা। কিন্তু মুরসি ঠিক কোথায় আছেন তা কেও জানে না। সেনা সমর্থিত অন্তর্র্বতী সরকারও স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। শুধু বলছে, মুরসি নিরাপদে আছেন। যারা মুরসির পক্ষে বিক্ষোভ করছে তাদের দমন করছে কঠোর হাতে। এমন অবস্থায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ার সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে সেনা সমর্থিত সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারগুলো বিরোধী মত দমনে যা করেছে বর্তমান সরকারও তাই করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো গত ক’দিন ধরেই সমালোচনা করে আসছে মিশরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। সেনাবাহিনী ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। সে সময় মুরসিকে তাঁর অন্তত সাতজন ঘনিষ্ঠ নেতাসহ আটক করে তারা। তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়নি। তবে গত ১০ জুলাই এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে কারাগার থেকে মুরসির পালানোর ঘটনার তদন্ত করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, মুবারকবিরোধী আন্দোলনের সময় কারাগার থেকে মুরসিসহ অনেকের পালানোর ঘটনায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র হামাস গোষ্ঠীর সহায়তা ছিল। প্রধান আইনজীবী হেশাম বারাকাত এ ব্যাপারে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন।

ধারণা করা হচ্ছিল কায়রোর প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের সদর দপ্তরে মুরসিকে আটক রাখা হয়েছে। গত ৮ জুলাই মুরসির রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি ও মূল দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরা ওই সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। সেনাবাহিনী তাদের হটাতে গুলি চালালে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়। কয়েক দিনের ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর দেশের পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার দিকে মোড় নেয়। সেনা সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের সর্বোচ্চ নেতা মোহাম্মদ বাদিসহ কয়েক’শ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

সেনা অভ্যুত্থানের রাতে নিখোঁজ হওয়া মুরসির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আত্মীয় জানান, ঘটনার রাত থেকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরিবারের কারোর যোগাযোগ নেই। নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আত্মীয় বলেন, গত কয়েক দিনে ফোনে তাঁর সঙ্গে যে কথা হয়েছে তাতে তিনি শুধু বলতে পেরেছেন- ‘আমি ঠিক আছি। তাঁরা কোথায় আছেন আমরা জানি না। তাঁদের কারা আটকে রেখেছে বা কয়জনকে আটকে রেখেছে তাও জানি না।’ আত্মীয়টি জানান, তাঁরা কয়েক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু ফোনকল পেয়েছেন। মনে হচ্ছে তাঁরা নিরাপত্তা বাহিনীর লোক। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারে তারা বলেছে, কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন না চাওয়া হয়। এমন খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ আলি গত ৯ জুলাই জানান, মুরসি ও তাঁর সহযোগীদের রিপাবলিকান গার্ড সদর দপ্তর থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তিনি জায়গার নাম বলেননি। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...