The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে চীন

প্রাকৃতিক জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চীনের নানা পদক্ষেপের মধ্যে বাধাস্বরূপ অর্থনৈতিক মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধ যার ফলে চীন পুনরায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ চীন পৃথিবীর বৃহত্তম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া চীন আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল একটি দেশ। অতিরিক্ত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কার্বনের বৃহত্তম নির্গমন দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে চীন 1

অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন তৈরি হওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোপরি প্রথম সারির একটি দেশ চীন। অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন উত্তোলনকে হ্রাস করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্রিয় কিছু ভূমিকা নেবে চীন। চীন মূলত কার্বনের মাত্রা সহনীয় রাখার ব্যাপারে আগে থেকে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে। অতিরিক্ত মাত্রায় কয়লা গ্রহণের পন্য সামগ্রী যার ফলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হতে পারে এবং মারাত্মক ধূমপানের শিকার হওয়ার পরে চীন সরকার এটি জাতীয়ভাবে কর্মপরিকল্পনা শুরু করতে থাকে। চীন সরকার নানাবিধ কর্ম ও পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানো বা কয়লা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা, বাতাসের গুণগতমান ও বায়ুর মানকে উন্নত সাধন করা এবং সামগ্রিকভাবে কার্বন নির্গমন হওয়াকে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা। পরিবেশের উন্নতি সাধনের জন্য চীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ লক্ষণীয় ২০১১ সাল থেকেই।

প্রাকৃতিক জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চীনের নানা পদক্ষেপের মধ্যে বাধাস্বরূপ অর্থনৈতিক মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধ যার ফলে চীন পুনরায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ২০১৮ সালের চীনের যে অঞ্চলগুলো দূষিত বা যে অঞ্চলের বায়ুর স্তর অতিমাত্রায় দূষিত বলে চিহ্নিত করা হয় সে সকল অঞ্চলে ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে থেকে ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো দূষণকারী শিল্পের ওপর কড়া নজরদারি স্থাপন করেন চীন সরকার। চীনের এই পদক্ষেপ ধীরে ধীরে বন্ধ হতে শুরু করে যার ফলে চীনের বায়ু আবার ভারি হয় এবং পরবর্তীতে কয়লার ব্যবহার চিনে আবার বেড়ে যায়।

চীন পৃথিবীর উৎপাদনশীল দেশগুলোর মধ্যে সর্বসেরা ও সর্বশীর্ষে গণনা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চীন বিশ্ব নির্গমনের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এমন ভাবনা সকলের রয়েছে’। উৎপাদনশীল দেশ চীনের অন্যান্য দেশের তুলনায় কার্বনের নির্গমনের মাত্রা সবথেকে বেশি। চীনের সকল শিল্পখাত গুলোর মধ্যে বেশিরভাগ শিল্পখাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হওয়া ৭৫ শতাংশ সর্বোচ্চ উৎপাদিত হওয়া শিল্প খাত থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। নানাবিধ পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত যে কার্বন ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে চীন পোশাক-খাতে পৃথিবীর বৃহত্তম নির্গমনকারী একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সকল বৃহৎ কোম্পানি ও ব্র্যান্ডগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপ লক্ষণীয় বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড গুলি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি গুলোকে পূরণ করতে সক্ষম হতে পারে।

তবে আশানুরূপ বার্তা হলো এই যে ইতিমধ্যে চীন তাদের এই সকল পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ৭০ টি বহুজাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোকে আইডি দ্বারা সংকলিত মনিটরিং ডেটা প্রয়োগ করা হচ্ছে যার ফলে আট হাজারেরও(৮০০০) বেশি সরবরাহকারীকে নিয়ন্ত্রণমূলক মোকাবেলায় ও পরিবেশের রক্ষায় তাদের কে উৎসাহিত করতে পারে। এছাড়া প্রত্যেকটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ যাতে কার্বনের নির্গমন হ্রাস করতে পারে সে ক্ষেত্রে এটি সর্বোপরি কাজ করে চলেছে। এই ডেটা মনিটরিং সিস্টেম ব্যবসা কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি জনসাধারণ এবং বিনিয়োগকারীদের সাহায্য করে থাকে যে কে কোনটি সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো ব্যবহার করেছে এবং কোন কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নিয়মগুলোকে লংঘন করেছে। নিয়ম লংঘনকারী সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর জবাবদিহি করার জন্য এবং তথ্য প্রকাশ বা মিথ্যা বলার ব্যর্থ হওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই উচ্চতর জরিমানা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যার ফলে কার্বন ও পরিবেশের ঝুঁকি সৃষ্টি করে সকল সংস্থাগুলো সোচ্চার হয় এবং পরিবেশ রক্ষার্থে সঠিক ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...