The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শি-মোদি একমত

শেষ হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য এবং ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফলভাবে শেষ হয়েছে দুইদিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।

ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শি-মোদি একমত 1

গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বহুপক্ষীয় আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্যদিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মহাসম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশের শীর্ষনেতারা উপস্থিত হন।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মূল ভিত্তিই ছিল টেকসই ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাপ্লাই চেইন সংকট এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার যুগে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায় ও বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়, সেই বিষয়ে এই চার নীতির আলোকে বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসকে একটি সমন্বিত, শক্তিশালী এবং কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এই চার স্তম্ভ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর দিকেই, যারমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারত-চীন এবং ভারত-রাশিয়া বৈঠক। দীর্ঘ ৭ বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে পা রেখে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসেন শি। হিমালয় সীমান্ত তথা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর স্থায়ী শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য যেনো কোনোভাবেই বিরোধে পরিণত না হয়। বিদ্যমান সীমান্ত সংক্রান্ত সব চুক্তি এবং সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং স্বার্থ- এই তিন নীতির ওপর ভিত্তি করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হন দুই শীর্ষ নেতা।

অপরদিকে, পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মোদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের যুদ্ধ এবং সংঘাত নিরসনে সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং শুধু আলোচনা এবং কূটনীতিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

মোদি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ব-দরবারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর হিস্যা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং কারিগরি সহায়তা দেবে।

সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে ৪৫ পৃষ্ঠা এবং ১৪০ অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’। এই ঘোষণাপত্রে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও একতরফা সামরিক সংঘাতের কঠোর ভাষা এবং তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথ কিংবা বিকাশমান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায়সংগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কবার্তা জারি করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, এই ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সার্বিক যৌথ অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। সম্মেলন শেষে মোদি ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ও উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীন ও শিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে নয়াদিল্লি সম্মেলনের যবনিকা টানেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali