The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন মহাকাশ অভিযানের এক নতুন অধ্যায়

আট বছর মহাকাশে ছুটে এবার বুধের কাছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের তৈরি একটি মহাকাশযানকে পৃথিবী থেকে সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধে পাঠানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ পৃথিবী থেকে দূরে কোনো গ্রহের দিকে যাওয়া যতটা সহজ মনে হয়, বুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি তার চেয়েও অনেক জটিল।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন মহাকাশ অভিযানের এক নতুন অধ্যায় 1

সূর্যের প্রচণ্ড মহাকর্ষের কারণে মহাকাশযানকে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করাতে অসাধারণ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

এই কঠিন কাজেই প্রায় আট বছর ধরে ছুটছে ইউরোপ এবং জাপানের যৌথ মহাকাশ অভিযান BepiColombo। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে। মহাকাশযানটি এখন বুধে পৌঁছানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

BepiColombo উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ২০১৮ সালের অক্টোবরে। তারপর সরাসরি বুধে গিয়ে থেমে যাওয়া সম্ভব ছিল না। মহাকাশযানটিকে পৃথিবী, শুক্র এবং বুধের মহাকর্ষীয় সহায়তা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে তার গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় এটি কয়েক বিলিয়ন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।

২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটে। Mercury Transfer Module কিংবা MTM মহাকাশযানের মূল বৈজ্ঞানিক অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার Mercury Planetary Orbiter এবং জাপানের Mercury Magnetospheric Orbiter- যার নাম Mio- বুধকে প্রদক্ষিণের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যায়।

তবে অবাক করার বিষয় হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটেছে পৃথিবী থেকে ২০ কোটি কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। সেখানে কোনো প্রকৌশলী সরাসরি গিয়ে যন্ত্র ঠিক করতে পারবেন না। পৃথিবী থেকে পাঠানো নির্দেশ পৌঁছাতে সময় লাগে ও মহাকাশযানের প্রতিটি পদক্ষেপ আগে থেকেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করতে হয়।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী BepiColombo ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর বুধের কক্ষপথে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে যাবে। তারপর ডিসেম্বরে দুটি বৈজ্ঞানিক অরবিটার পৃথক হবে। পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে।

এই অভিযানের লক্ষ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অরবিটার বুধের পৃষ্ঠ, ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, অভ্যন্তরীণ গঠন ও চৌম্বক ক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে। জাপানের Mio বুধের চৌম্বকমণ্ডল এবং সৌর বায়ুর সঙ্গে তার সম্পর্ক পরীক্ষা করবে। বুধের মেরু অঞ্চলে সম্ভাব্য বরফের উপস্থিতি নিয়েও গবেষকদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

বুধকে সৌরজগতের সবচেয়ে কম বোঝা গ্রহগুলোর একটি বলা হয়। সূর্যের অত্যন্ত কাছে থাকার কারণে সেখানে প্রচণ্ড তাপমাত্রা, তীব্র সৌর বিকিরণ ও জটিল মহাকর্ষীয় পরিবেশ রয়েছে। ফলে একটি মহাকাশযানকে সেখানে নিরাপদে পরিচালনা করাই বিরাট প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

BepiColombo সফল হলে বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান অনেকটাই বদলে যেতে পারে। শুধু বুধ নয়, এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ গ্রহগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কীভাবে তাদের চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে এবং সূর্যের কাছাকাছি গ্রহের বিবর্তন কীভাবে ঘটে- এইসব প্রশ্নেরও নতুন উত্তর পেতে পারেন।

অর্থাৎ প্রায় ৮ বছর ধরে চলা এই মহাকাশযাত্রা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কয়েক বছরের অপেক্ষার ফল হাতে আসতে শুরু করবে। মূলত বুধের অজানা জগতের দরজা খুলতে যাচ্ছে মানুষের তৈরি দুই বৈজ্ঞানিক চোখ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali