দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শরীরের সৌন্দর্য ও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা- দুই দিক থেকেই বাহুর শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের ব্যাগ বহন করা, কোনো জিনিস ওঠানো, দরজা খোলা বা ঘরের বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী বাহু উপকার করে।

বাহুর পেশি শক্তিশালী করতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাবারও প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সব প্রধান পেশিগোষ্ঠীকে নিয়ে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়।
বাহুর শক্তি বাড়ানোর সহজ ব্যায়ামের মধ্যে পুশ-আপ অন্যতম। এটি শুধু বাহু নয়, বুক, কাঁধ ও শরীরের কেন্দ্রীয় পেশিকেও কাজে লাগায়। নতুনদের জন্য দেয়ালে ভর দিয়ে পুশ-আপ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরে টেবিল কিংবা উঁচু কোনো জায়গায় ভর দিয়ে ও ধীরে ধীরে মেঝেতে সাধারণ পুশ-আপ করার অভ্যাস করা যায়। প্রথম দিকে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ৬ থেকে ১০ বার করে দুই কিংবা তিন সেট করা যেতে পারে।
বাইসেপ কার্ল বাহুর সামনের অংশের পেশি শক্তিশালী করার আরেকটি কার্যকর ব্যায়াম। হাতে হালকা ডাম্বেল না থাকলে পানিভর্তি বোতল ব্যবহার করা যায়। দুই হাতে ওজন নিয়ে কনুই শরীরের কাছাকাছি রেখে ধীরে ধীরে হাত ভাঁজ করে ওপরে তুলতে হবে ও আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নামাতে হবে। দ্রুত হাত ওঠানো-নামানোর বদলে ধীরে ব্যায়াম করাই ভালো।
ট্রাইসেপ ডিপ বাহুর পেছনের পেশি শক্তিশালী করতেও সাহায্য করতে পারে। তবে এই ব্যায়াম করার সময় কাঁধ এবং কবজিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি ওভারহেড ট্রাইসেপ এক্সটেনশন, হ্যামার কার্ল ও হালকা ওজন দিয়ে শোল্ডার প্রেস করা যেতে পারে।
তবে বাহু শক্তিশালী করতে গিয়ে একদিনেই বেশি ব্যায়াম করা ঠিক নয়। প্রথমে কম ওজন এবং কম পুনরাবৃত্তি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো উচিত। ব্যায়ামের আগে হালকা ওয়ার্ম-আপ ও শেষে স্ট্রেচিং করা ভালো। ব্যায়ামের সময় তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা হলে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।
শুধু বাহুর ব্যায়ামই নয়, স্কোয়াট, লাঞ্জ, হাঁটা কিংবা অন্যান্য শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও রুটিনে রাখা উচিত। কারণ শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ানোর কারণেই দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকার পাবেন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org