দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে গ্রিন টি ও মধু- দুটিই খুব জনপ্রিয়। কেও সকালে গ্রিন টি পান করেন, আবার কেও মধু মিশিয়ে গরম পানি খান।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে- কোনটি বেশি উপকারী? উত্তর হলো, দুটির উপকারিতা আলাদা ও একটিকে অন্যটির চেয়ে সব ক্ষেত্রে বেশি উপকারী বলা যায় না।
গ্রিন টির উপকারিতা
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রিন টিতে ক্যাফেইনও থাকে, যদিও কফির তুলনায় কম।
কিছু গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত গ্রিন টি পান হৃদ্স্বাস্থ্য এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।
মধুর উপকারিতা
মধুতে প্রাকৃতিক চিনি, অল্প পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। কাশি বা গলার অস্বস্তিতে এক বছরের বেশি বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কিছুটা আরাম দিতে পারে।
তবে মধু মূলত চিনির উৎস। তাই অতিরিক্ত মধু খেলে ক্যালোরি বেড়ে যায়।
ওজন কমাতে কোনটি ভালো?
অনেকেই মনে করেন, মধু খেলে ওজন কমে। আবার কেও বলেন গ্রিন টি চর্বি গলিয়ে দেয়। বাস্তবে কোনোটিই একা ওজন কমায় না। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের সঙ্গে এগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কী মধু খাবেন?
মধুও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
গ্রিন টি খাওয়ার সতর্কতা
অতিরিক্ত গ্রিন টি খেলে কিছু মানুষের অম্লতা, ঘুমের সমস্যা কিংবা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। খালি পেটে অনেকের অস্বস্তিও হতে পারে।
তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
গ্রিন টি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ
কম ক্যালোরি
ক্যাফেইন থাকে
মধু
প্রাকৃতিক মিষ্টি
তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি
ক্যাফেইন নেই
গ্রিন টি এবং মধু দুটির উপকারিতা ভিন্ন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে পরিমিত গ্রিন টি পান করা যেতে পারে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণ মধু ব্যবহার করা যেতেই পারে। তবে কোনোটিই অলৌকিক স্বাস্থ্যপানীয় নয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org