দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় কিছুদিন পূর্বে সাবধান করেছিলেন, নারীকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কুমন্তব্য করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এবার সেই বক্তব্য সমর্থন করে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের পাশে দাঁড়ালেন বিজেপির সংসদ সদস্য এবং বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী জানা যায়, সম্প্রতি তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-র নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের এক রাজনৈতিক সভায় ঘটে যায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা। সভা থেকে অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ বিজয়ের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভিড়ের মধ্য থেকে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে কুৎসিত এবং আপত্তিকর স্লোগান তোলা হয়।
একজন প্রথম সারির শিল্পীকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণের কারণে নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে। এই ঘটনার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজয়ের স্পষ্ট বার্তা, নারীদের নিয়ে যে কোনো ধরনের নোংরা মন্তব্য কিংবা চরিত্রহননের চেষ্টা করা হলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
তৃষা কৃষ্ণানের বিষয়টি টেনে কঙ্গনা বলেছেন, ‘তামিলনাড়ুতে যা ঘটছে, তা সবারই জানা। একজন অত্যন্ত সম্মানিত শিল্পীকে অহেতুক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জড়িয়ে অপমান করা হয়। কোনো সম্পর্কে দুই পক্ষের সম্মতি থাকলেও, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং চরিত্রহননের ক্ষেত্রে সবসময় নিশানা করা হয় মূলত নারীকেই।’
কঙ্গনার এমন সহমর্মিতা এবং স্পষ্টবাদী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছে। বিনোদনপ্রেমীদের মতে, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে যে কোনো নারীর সম্মানের প্রশ্নে কঙ্গনার এই প্রতিবাদী ভূমিকা সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসনীয় হচ্ছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org