দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সুস্থ ও ফিট থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। এর মধ্যে হাঁটা এবং দৌড়ানো- দুইটিই সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় ব্যায়াম।

তবে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন, হাঁটা বেশি উপকারী নাকি দৌড়ানো? আসলে এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং লক্ষ্য অনুযায়ী।
হাঁটা একটি হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম। এটি বিশেষ করে নতুনদের জন্য বা যাদের শারীরিক সক্ষমতা কম, তাদের জন্য খুবই উপযোগী। নিয়মিত দ্রুতগতিতে হাঁটা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা হৃদরোগ ও ডায়বেটিস এর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়াও হাঁটা শরীরের জয়েন্টের ওপর কম চাপ ফেলে, তাই বয়স্ক বা জয়েন্টের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি নিরাপদ।
অপরদিকে দৌড়ানো তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র ব্যায়াম। এটি স্বল্প সময়ে বেশি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ওজন কমাতে কার্যকর। দৌড়ানোর মাধ্যমে হার্ট ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দ্রুত উন্নত হয়। যারা ফিটনেস বাড়াতে চান বা দ্রুত চর্বি কমাতে চান, তাদের জন্য দৌড়ানো বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে দৌড়ানোর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অতিরিক্ত বা ভুল পদ্ধতিতে দৌড়ালে হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই জয়েন্টের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে দৌড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই দৌড়ানোর আগে সঠিক জুতা ব্যবহার এবং ওয়ার্ম-আপ করা জরুরি।
অপরদিকে হাঁটা ধীরে হলেও দীর্ঘমেয়াদে অনেক উপকার দেয়। এটি সহজে অভ্যাসে পরিণত করা যায় এবং প্রায় সব বয়সের মানুষই করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটা শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করে, ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
তাহলে কোনটি বেশি উপকারী? যদি লক্ষ্য হয় দ্রুত ওজন কমানো এবং উচ্চমাত্রার ফিটনেস অর্জন, তাহলে দৌড়ানো ভালো। কিন্তু যদি লক্ষ্য হয় দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা, কম ঝুঁকিতে ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখা, তাহলে হাঁটাই বেশি উপকারী।
হাঁটা এবং দৌড়ানো- দুটোরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে চাইলে দুটোই মিলিয়ে করা যেতে পারে। যেমন- প্রথমে হাঁটা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ব্যায়ামও উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org