The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সাইক্লিং আমাদের কী কী উপকার করে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু সময়ের অভাব কিংবা জিমে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই ব্যায়াম করতে পারেন না।

সাইক্লিং আমাদের কী কী উপকার করে 1

এমন পরিস্থিতিতে সাইক্লিং হতে পারে সহজ, আনন্দদায়ক এবং কার্যকর একটি ব্যায়াম। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের কাছেই সাইকেল চালানো জনপ্রিয়। এটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

সাইক্লিংয়ের সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। নিয়মিত সাইকেল চালালে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং হৃদ্‌পিণ্ড আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। এতে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাইক্লিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাইকেল চালানোর সময় শরীরের বিভিন্ন পেশি একসঙ্গে কাজ করে, ফলে ক্যালরি দ্রুত পোড়ে। যারা ওজন কমাতে চান বা শরীর ফিট রাখতে চান, তাদের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত সাইক্লিং বেশ কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি গতিতে এক ঘণ্টা সাইকেল চালালে কয়েকশ ক্যালরি পর্যন্ত পোড়ানো সম্ভব।

সাইক্লিং পেশি ও হাড় শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে পায়ের পেশি, কোমর এবং শরীরের নিচের অংশের পেশিগুলো বেশি সক্রিয় হয়। এতে শরীরের ভারসাম্য ও সহনশক্তি বাড়ে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত সাইক্লিং হাড়ের ক্ষয় ধীর করতে সহায়ক হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও সাইক্লিং উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সাইকেল চালালে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমতে পারে। খোলা পরিবেশে সাইকেল চালালে মন ভালো থাকে এবং মস্তিষ্কে সুখ অনুভূতির হরমোন নিঃসরণ বাড়ে। ফলে কাজের ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাইক্লিং সহায়ক। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়তে পারে।

শুধু স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশের জন্যও সাইক্লিং উপকারী। এটি জ্বালানিবিহীন যানবাহন হওয়ায় বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করে। ছোট দূরত্বে মোটরযানের বদলে সাইকেল ব্যবহার করলে পরিবেশ যেমন ভালো থাকে, তেমনি ব্যক্তিগত খরচও কমে।

তবে সাইক্লিং করার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক মাপের সাইকেল ব্যবহার করা, হেলমেট পরা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি। দীর্ঘ সময় সাইক্লিং করলে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়াও প্রয়োজন। যারা নতুনভাবে শুরু করছেন, তারা প্রথমে অল্প সময় চালিয়ে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।

সাইক্লিং একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত উপকারী ব্যায়াম। এটি শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনকেও প্রফুল্ল রাখে। তাই প্রতিদিনের জীবনে কিছুটা সময় সাইক্লিংয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য ভালো একটি অভ্যাস হতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali