The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কোন সময় হাঁটলে বেশি উপকার পাবেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হাঁটা হলো সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়ামের একটি। বয়স, লিঙ্গ বা শারীরিক সক্ষমতা যাই হোক না কেনো- প্রায় সবাই নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারেন।

কোন সময় হাঁটলে বেশি উপকার পাবেন? 1

তবে অনেকের প্রশ্ন থাকে যে, দিনে কোন সময় হাঁটলে শরীর সবচেয়ে বেশি উপকার পায়? প্রকৃতপক্ষে হাঁটার উপকারিতা সময়ভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই বিভিন্ন সময়ের হাঁটার সুবিধা জানা জরুরি।

সকালের হাঁটা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ভোরের নির্মল বাতাসে হাঁটলে ফুসফুসে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন প্রবেশ করে, যা শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ করে তোলে। সকালে হাঁটা দিনের শুরুতেই শরীরে শক্তি জোগায় এবং মন ভালো রাখে। যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা স্থূলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য সকালের হাঁটা বিশেষ উপকারী। এটি মেটাবলিজম সক্রিয় করে এবং সারাদিন ক্যালরি পোড়ানোর হার বাড়ায়।

দুপুর কিংবা বিকেলের হাঁটা মূলত কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য কার্যকর বিকল্প। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি ও অবসাদ জমে, বিকেলের হালকা হাঁটা তা দূর করতে সাহায্য করে। এই সময় হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির শক্তভাব কমে। যারা অফিস বা ঘরে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাদের জন্য বিকেলের হাঁটা মানসিক চাপ কমাতে বেশ সহায়ক।

রাতের খাবারের পর হাঁটা হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রাতের খাবারের পর হালকা গতিতে ১০–২০ মিনিট হাঁটলে খাবার সহজেই হজম হয় এবং গ্যাস, বদহজম বা বুকজ্বালার সমস্যা কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রাতের খাবারের পর হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে খুব দ্রুত বা দীর্ঘ সময় হাঁটা না করাই ভালো।

সূর্যাস্তের সময় হাঁটা অনেকের কাছে মানসিক প্রশান্তির একটি মাধ্যম। দিনের কাজের চাপ শেষে এই সময় হাঁটলে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমে। প্রাকৃতিক আলো ও শান্ত পরিবেশ মনকে স্বস্তি দেয়, যা ঘুমের মানও উন্নত করে।

তবে হাঁটার উপকার শুধু সময়ের ওপর নির্ভর করে না; নিয়মিত হাঁটাই আসল বিষয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের সময়ের অভাব আছে, তারা দিনের যে কোনো সুবিধাজনক সময়ে হাঁটলেও উপকার পাবেন।

সকালের হাঁটা শারীরিকভাবে বেশি উপকারী হলেও বিকেল কিংবা রাতের হাঁটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজের জীবনযাপন, শরীরের অবস্থা এবং সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিয়মিত হাঁটাকে অভ্যাসে পরিণত করলেই মিলবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য উপকার।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali