দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)-এর ২য় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার গুলশান ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসআইএ-এর সভাপতি জনাব এম. এ. জব্বার।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএসআইএ সভাপতি জনাব এম এ জব্বার গত এক বছরে অ্যাসোসিয়েশনের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি দক্ষ সেমিকন্ডাক্টর জনশক্তি গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএসআইএ-এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এজিএমে নির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ১ম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ; বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫-২০২৬ পর্যালোচনা ও অনুমোদন; ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিবেচনা ও অনুমোদন; ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নিরীক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে বিএসআইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) জনাব মোজাহেদুল হক আবুল হাসানাত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব ও নিরীক্ষকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিএসআইএ-এর পরিচালক জনাব মুনির আহমেদ এবং জনাব কামরুল আহসান দেওয়ানজীও আলোচনায় অংশ নেন।
এজিএমে বিএসআইএ-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, উলকাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, তাফুরি টেকনোলজিস লিমিটেড, আইটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলিকোনোভা লিমিটেড, ডায়নামিক সল্যুশন ইনোভেটরস, বালু টেকনোলজিস লিমিটেড, প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি লিমিটেড, ক্যাকটাস ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড, ক্রান্তি অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, এডিএন সেমিকন্ডাক্টরস লিমিটেড এবং সিলিকন অ্যারে-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সদস্যরা শিল্পের উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ইভেন্টে অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক বাজারে নতুন সুযোগ অনুসন্ধান এবং সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য ২০৩০ সালকে লক্ষ্য ধরে একটি সমন্বিত সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন। সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামত বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী, বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতি সকলের অভিন্ন অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org