দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হলো ডার্ক ম্যাটার কিংবা অন্ধকার পদার্থ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বের বিপুল পরিমাণ পদার্থ এমন এক অদৃশ্য উপাদান দিয়ে গঠিত, যা আলো শোষণ কিংবা প্রতিফলন করে না।

তাই টেলিস্কোপ দিয়ে তাকে সরাসরি দেখা যায় না। তবে এর মহাকর্ষীয় প্রভাব থেকে বিজ্ঞানীরা এর অস্তিত্বের ধারণা পেয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা ডার্ক ম্যাটারের কণাকে সরাসরি শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। আর এখন সেই অনুসন্ধানে একটি অত্যন্ত অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডাকোটার ভূগর্ভে পরিচালিত LUX-ZEPLIN কিংবা LZ পরীক্ষায় এমন একটি বিরল কণা-প্রতিক্রিয়া শনাক্ত হয়েছে, যা ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য প্রার্থী WIMP-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
LZ পরীক্ষাটি পৃথিবীর গভীরে স্থাপিত, যাতে ওপরের দিক থেকে আসা মহাজাগতিক রশ্মি এবং অন্যান্য ব্যাকগ্রাউন্ড সংকেত যতটা সম্ভব কমানো যায়। সেখানে প্রায় ১০ টন তরল জেনন ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা অতি ক্ষুদ্র কণা-প্রতিক্রিয়া শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
ধারণাটি বেশ সহজ, কিন্তু বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। যদি ডার্ক ম্যাটারের কোনো কণা জেননের পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তাহলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি শক্তি পরিবর্তন ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন থেকে বিজ্ঞানীরা কণাটির সম্ভাব্য উপস্থিতির প্রমাণ খুঁজে পান।
সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এমন একটি ঘটনা দেখা গেছে, যা বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলেছে। ঘটনাটি WIMP নামের একটি সম্ভাব্য ডার্ক ম্যাটার কণার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। গবেষকরা ধারণা করছেন, সম্ভাব্য কণাটির ভর একটি প্রোটনের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ হতে পারে।
তবে এখানে একটি বড় সতর্কতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখনও বলেননি যে তারা নিশ্চিতভাবে ডার্ক ম্যাটার আবিষ্কার করেছেন। সংকেতটির পরিসংখ্যানগত গুরুত্ব প্রায় ২.৬ সিগমা, যেখানে পদার্থবিজ্ঞানে কোনো নতুন আবিষ্কারকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাধারণত ৫ সিগমা মানের প্রমাণ প্রত্যাশা করা হয়। অর্থাৎ এটি একটি সম্ভাবনাময় সংকেত, তবে চূড়ান্ত আবিষ্কার নয়।
তারপরও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের প্রমাণ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাকর্ষীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেয়েছেন, কিন্তু ডার্ক ম্যাটারের কোনো নির্দিষ্ট কণাকে সরাসরি শনাক্ত করা এখনও সম্ভব হয়নি।
যদি ভবিষ্যতে আরও তথ্য সংগ্রহ করে একই ধরনের সংকেত বারবার পাওয়া যায় ও অন্য পরীক্ষাগুলোও একই ফলাফল নিশ্চিত করে, তাহলে এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম বড় আবিষ্কার হতে পারে।
তাহলে মহাবিশ্বের অদৃশ্য অংশের প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে যাবে। তবে আপাতত বিজ্ঞানীদের অবস্থান পরিষ্কার- দরজা খুলেছে, তবে রহস্যের সমাধান এখনও হয়নি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org