দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভাত, রুটি, মাছ, মাংস বা ডিমের পাশাপাশি সবজির উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ- তা অনেকেই জানেন, তবে নিয়মিতভাবে মেনে চলেন না।

অথচ শরীরকে সুস্থ রাখতে বৈচিত্র্যময় সবজি খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের সবজি শরীরকে ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ এবং নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ উপাদান সরবরাহ করে। তাই শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের জন্যও খাবারের প্লেটে পর্যাপ্ত সবজি রাখাটা দরকার।
সবজির সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি হলো এতে থাকা খাদ্যআঁশ। খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যেসব খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ থাকে, সেগুলো পেট ভরা অনুভূতি বাড়াতেও সহায়তা করে। যে কারণে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতেও পারে। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে যারা সচেতন, তাদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের সবজি রাখা উপকারী।
সবজিতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ। যেমন- গাজর এবং মিষ্টি কুমড়ায় ক্যারোটিনয়েড, পালংশাক এবং অন্যান্য শাকসবজিতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ, আবার টমেটোতে লাইকোপিনের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদান পাওয়া যায়। সবজির রং যত বৈচিত্র্যময় হয়, সাধারণত তত বেশি ধরনের উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়। তাই শুধু আলু কিংবা একটি নির্দিষ্ট সবজি না খেয়ে লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং বেগুনি রঙের বিভিন্ন সবজি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাওয়া ভালো।
সবজি হৃদ্স্বাস্থ্যবান্ধব খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। খাদ্যতালিকায় বেশি সবজি এবং কম অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার রাখা হলে সামগ্রিক খাদ্যমান উন্নত হয়। একই সঙ্গে সবজির মাধ্যমে শরীরে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছায়। তবে কোনো একটি সবজিকে ‘সব রোগের ওষুধ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সুস্থ থাকার জন্য খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য থাকাটা জরুরি।
সবজি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো- অনেক সবজিতে তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরি থাকে, তবে খাবারের পরিমাণ এবং তৃপ্তি বাড়াতে পারে। যে কারণে বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে সবজি দিয়ে খাবারের একটি বড় অংশ পূরণ করা যেতেই পারে।
তবে সবজি রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, লবণ কিংবা চিনি দিয়ে রান্না করলে স্বাস্থ্যকর খাবারটির সামগ্রিক পুষ্টিমান কমে যেতে পারে। খুব বেশি সময় রান্না করলে কিছু তাপসংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সেদ্ধ, ভাপানো, হালকা রান্না কিংবা কম তেলে রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, সবজি একা পূর্ণাঙ্গ খাবার নয়। এর সঙ্গে শস্য, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ কিংবা অন্যান্য উপযুক্ত প্রোটিন উৎস ও ফলমূল মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা তৈরি করা উচিত। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং রোগভেদে খাদ্যের প্রয়োজনও ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্যময় সবজি রাখা সুস্থ জীবনযাপনের একটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org