যেভাবে আপনি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরিতে আপনার ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাবেন

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ আপনি কি ভালো কোন কাজ করতে চেয়ে ইচ্ছাশক্তি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন? মন চাইলেও আবেগকে না করতে পারেন না? পৃথিবীতে আপনার মত এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা তাদের খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে চেয়েও পারছেন না। কিভাবে ভালো অভ্যাস তৈরিতে আপনার ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাবেন তাই নিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন।


breathe4_600x450

আমাদের জীবনের ৯৫% পরিচালিত হয় অবচেতন মনের ইচ্ছেতে। অনেক সময় আমাদের নিজেদের উপর নিজেদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। অনেক কিছুই ইচ্ছে থাকার পরও করতে পারিনা। মনে মনে চিন্তা করি সামনে থেকে এভাবে চলব বা এভাবে কাজ করব কিন্তু শেষ মেশ তা আর করা হয়ে উঠেনা।

আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অটো পাইলটের মত পরিচালনা করে, যেমন সকাল বেলা আপনি নিয়ম করেই ঠিক ঠাক ভাবে দাঁত মাজেন কিংবা কোন মশা আপনাকে কামড়ালে ঠিক জায়গায় না দেখেও আঘাত করে মশা মারার চেষ্টা করেন। মানুষের জীবনে নতুন অভ্যাস তৈরি হতে একটা সময় লাগে। কারণ আপনাকে এই সময়ের মাঝে আপনার মস্তিষ্ককে উক্ত অভ্যাসের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। মস্তিষ্ক একবার ঠিক ঠাক বিষয়টি বুঝে নিলে আপনার এ ক্ষেত্রে আর সমস্যায় পড়তে হয়না। কিন্তু মস্তিষ্ককে এতদিন চলে আশা অভ্যাসের বদলে নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত করে তোলা মানুষের জন্য এতটা সহজ কাজ নয়।

আমরা আপনাকে আজ আপনার মস্তিষ্ককে কিভাবে আপনার আকাঙ্ক্ষিত নতুন অভ্যাসের সাথে খাপ খাওয়াবেন তার জন্য ৭টি প্রক্রিয়া জানাবো। একবার যদি আপনি আপনার মস্তিষ্কে আপনার নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন তবে এটি স্বাভাবিক ভাবে আপনার অভ্যাসে রূপান্তরিত হবে। এসব প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আপনি আপনার, ডায়েট পরিবর্তন, ব্যায়াম, ধ্যান, মানসিক চাপ কমানো, ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন।

Healthy-habit

একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখুনঃ যেকোনো কাজে টার্গেট বা লক্ষ্য ঠিক রাখতে হয়। লক্ষ্যহীন কোন কিছুই আপনার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারবেনা। যেমন ধরুন আপনি যদি নির্ধারণ করেন আপনি প্রতিদিন আন্তত ১০ মিনিট করে হাঁটবেন অথবা ১৫ মিনিট সময় নিয়ে ধ্যান করবেন, এক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তবে আপনি এই সামান্য সময় ধ্যান বা হাঁটার ফলে আপনার মস্তিষ্ককে এ সাথে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তুলতে পারবেন।

109717454

নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ রাখুনঃ অনেকেই আছেন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আপনার মস্তিষ্ক যদি সব সময় একই কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে যায় তবে এটি বার বার তাই করতে চাইবে। যেমন আপনি প্রতিবার খাওয়ার পর ধূমপান করতে অভ্যস্ত তবে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে খাওয়ার পর ধূমপান করতে উৎসাহিত করবে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আপনাকে বিকল্প অভ্যাস তৈরিতে লক্ষ্য স্থির করতে হবে পাশাপাশি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। মনে রাখবেন নিয়ন্ত্রণহীন জীবন অনেকটা ব্রেক বিহীন গাড়ীর মত।

Healthy-Habits

যা করতে চান দ্রুত করুনঃ ধ্যান বা ব্যায়াম আপনার যখন যা করতে ইচ্ছে করবে আপনাকে তা সময় মত করে ফেলতে হবে, কারণ মানুষের মন বিচিত্র যেকোনো সময় আপনার মন পাল্টে যেতে পারে।

kettlebells

সঠিক প্রস্তুতি গ্রহনঃ মনে আত্মবিশ্বাস রাখুন আপনার যা যা প্রয়োজন তা রয়েছে সাথে প্রয়োজনীয় সব কিছুই আপনার সংগ্রহে রাখুন। যেমন আপনি যদি হাঁটতে বের হন তবে আপনার আরাম দায়ক পোশাক প্রয়োজন। তা যদি না থাকে তবে আপনার হাঁটতে বিরক্ত লাগবে সুতরাং আপনি ডায়েট পরিবর্তন, ব্যায়াম, ধ্যান, মানসিক চাপ কমানো বা ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও গ্রহন করুন।

Health-Habits

কাজকে সহজ করে নিনঃ অনেকেই জিমে ভর্তি হয়ে কিছুদিনের মাঝেই আর নিয়মিত জিম করতে যান না, কারণ জিমে ব্যায়াম অনেক পরিস্রমের কাজ। কিন্তু আপনি যদি মনে মনে এটি করতে অভ্যস্ত থাকেন এবং লক্ষ্য স্থির রাখেন তবে অবশ্যই কাজ যতই কঠিন হোকনা কেন আপনি তা করতে অবশ্যই সফল হবেন। এক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তি ও লক্ষ্য ঠিক থাকলে কঠিন কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

healthyheart_600x450

কাজ কে মজার করে তুলুনঃ আপনি যদি কোন কাজে মজা না পান তবে আপনি কাজকে উপভোগ করতে পারবেন না। আপনি যদি আপনার জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে চান তবে নতুন জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে গেলে এতে মজা আবিষ্কার করতে হবে সাথে একে উপভোগও করতে হবে।

riding-bicycle-point-of-view_pop_13130

মাঝপথে নিয়ম ভঙ্গ করবেন নাঃ আপনি প্রতিদিন আপনার নিয়ম মত লক্ষ্য স্থির রেখে আপনার কাজ করে যাবেন। এক্ষেত্রে যদি কোনদিন আপনার নতুন অভ্যাসে পরিবর্তন আসে বা নিয়ম ভঙ্গ হয় তবে আপনার সম্পূর্ণ প্রচেষ্টাই বৃথা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন, যেমন প্রতিদিন কাজ শেষে আপনি ক্যালেন্ডারের সেদিনের তারিখে ক্রস দিয়ে রাখুন। এভাবে দেখতে দেখতে মাস পেরিয়ে যাবে ধীরে ধীরে আপনি ভালো অথবা স্বাস্থ্যকর কাজে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

এই ধাপ সমূহ সঠিক ভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। আপনার মস্তিষ্ক এতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে। মানুষের জীবন তার চাহিদার তুলনায় খুবি কম। অতএব এ ক্ষুদ্র সময়ে ভালো কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে জীবন কে আরও সুন্দর করে তুলুন।

সূত্রঃ লাইফ হ্যাকার

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...