দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরো মুভি ‘ডেডপুল এন্ড উলভারিন’ আবারও বক্স অফিসের শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে। ২৩ আগস্ট এটি প্রেক্ষাগৃহে চতুর্থ সপ্তাহ পার করে। এই সময় এসে সিনেমাটি আয় করেছে অন্তত ৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার!

গত সপ্তাহে নতুন মুক্তি পাওয়া ‘এলিয়েন: রোমুলাস’ সিনেমাটি শীর্ষ স্থান দখল করলেও, এবার ‘ডেডপুল এন্ড উলভারিন’ সেই স্থান পুনরুদ্ধার করলো। ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১.১৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা এটিকে সর্বকালের অষ্টম সর্বোচ্চ আয়কারী সুপারহিরো মুভি হিসেবে স্থান করে নিলো।
অপরদিকে, ‘এলিয়েন: রোমুলাস’ ৪.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ৮০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সাই-ফাই-হরর মুভিটি মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে।
কলিন হুভারের ২০১৬ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ অবস্থান করছে তৃতীয় স্থানে, ৩.৮২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে এই সিনেমাটি। ছবিটি ব্লেক লাইভলি এবং জাস্টিন বালডোনির মধ্যে সম্পর্কের গুঞ্জনের জন্য খুব বেশি আলোচিত হয়েছে। বালডোনি, যিনি এই মুভির পরিচালক ছিলেন। তিনি জানান যে, ছবিটির সিক্যুয়েল করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
জোয়ে ক্রাভিটজের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’, যা তারই বাগদত্তা চ্যানিং টাটুম অভিনীত। ছবিটি ২.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ছবিটি একটি প্রাইভেট আইল্যান্ড থ্রিলার, যা দর্শকদেরও মুগ্ধ করেছে।
বাইবেলিকাল ড্রামা ‘দ্য ফোরজ’ অবস্থান করছে পঞ্চম অবস্থানে। ছবিটি ইতিমধ্যেই ২.৪২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এটি ২০১৫ সালের ‘ওয়ার রুম’ সিনেমাটির সিক্যুয়েল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে। ছবিটি পরিচালনায় ছিলেন কেনড্রিক ব্রাদার্স। তিনি ওয়াশিংটন টাইমসকে তাদের ‘সবচেয়ে সম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ কাজ’ হিসেবে দ্য ফোরজের নাম উল্লেখ করেন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org