দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ওপেনএআইয়ের বহুল প্রতীক্ষিত জিপিটি-৫ মডেলটি সবাই বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে বলে ঘোষণা দিলো সংস্থাটি। মাইক্রোসফটের কো-পাইলট ব্যবহারকারীরা নতুন এই মডেলটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।

মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইটে বহুল প্রতীক্ষিত এই অত্যাধুনিক মডেল সম্পর্কে বলা হয়, জিপিটি-৫ সরাসরি বিভিন্ন মাইক্রোসফট এআই পরিষেবাতে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্ত করা হচ্ছে, যারমধ্যে মাইক্রোসফট কো-পাইলট রয়েছে। এখন থেকে এই পরিষেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান নতুন মডেলটিকে ‘আরও স্মার্ট, দ্রুত ও কার্যকর’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, জিপিটি-৫ এর মতো একটি প্রযুক্তি মানুষের ইতিহাসে পূর্বে অকল্পনীয় ছিল।
মাইক্রোসফট মডেলটি সম্পর্কে বলেছে, ওপেনএআই-এর এ পর্যন্ত সেরা এআই সিস্টেম জিপিটি-৫। এটি তাদের বিভিন্ন পরিষেবাতে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। মডেলটি তাদের প্ল্যাটফর্মজুড়ে নতুন রিজনিং সক্ষমতা ও কোডিং এবং চ্যাটে উন্নতি আনবে বলেও আশা করা হচ্ছে। অ্যাজুর প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষিত জিপিটি-৫-এ ওপেনএআই-এর সর্বশেষ রিজনিং মডেলগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, ‘৩৬৫ কো-পাইলট বিজনেস’ ও ‘কো-পাইলট কনজিউমার’ উভয় গ্রাহকই সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই জিপিটি-৫ ব্যবহার করতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে যে, জিপিটি-৫ প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মানুষের ভাষার সূক্ষ্মতা পূর্বের চেয়ে আরও গভীরভাবে বুঝতে পারে।
বর্তমানে কো-পাইলট মাইক্রোসফটের সার্চ ইঞ্জিন বিং, ব্রাউজার মাইক্রোসফট এজ ও এমনকি আউটলুকসহ প্রায় সব মাইক্রোসফট পণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীরা মাইক্রোসফট স্টোর হতে কো-পাইলট অ্যাপ ডাউনলোডও করতে পারবেন। এ ছাড়াও ‘copilot. microsoft. com’ এই ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে এখনই এটি ব্যবহারও করা যাবে। অপরদিকে, কো-পাইলটে জিপিটি-৫ ব্যবহার করতে হলে সার্চ কোয়েরি বক্সের ড্রপ-ডাউন মেনুতে ক্লিক করলে হবে।
মাইক্রোসফট জিপিটি-৫ তাদের প্রোগ্রামিং অ্যাপ্লিকেশন, যেমন- গিটহাব ও ভিজ্যুয়াল স্টুডিওতেও যুক্ত করছে। যে কারণে ব্যবহারকারীরা আরও কার্যকরভাবে কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই করতে পারবেন। অ্যাজুর এআই ফাউন্ড্রিও এখন থেকে জিপিটি-৫ পাবে, যা এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড নিরাপত্তা, সম্মতি ও গোপনীয়তার সুরক্ষাও দেবে।
মাইক্রোসফট ৩৬৫ কো-পাইলট ব্যবহার করে, জিপিটি-৫ (অনুমতি সাপেক্ষে) ই-মেইল, ডকুমেন্ট ও ফাইলে প্রবেশ করতে পারে ও সেই ডেটার ওপর ভিত্তি করেই প্রশ্নের উত্তরও দিতে এবং কাজ সম্পাদনও করতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>
করনা সম্পর্কে নতুন করে জরুরী সতর্কতা
আসুন আমরা আবার মাস্ক পরা শুরু করি। কারণ করোনা তথা COVID-Omicron XBB আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় ভিন্ন ও বিপজ্জনক। এটি সহজে শনাক্তও হয় না, তাই সবার মাস্ক পরা অত্যন্ত জরুরি।
১. COVID-Omicron XBB এর নতুন উপসর্গগুলো:
i) কাশি নেই।
ii) জ্বর নেই।
বেশিরভাগ উপসর্গ হলো—
iii) অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
iv) মাথাব্যথা।
v) গলাব্যথা।
vi) পিঠে ব্যথা।
vii) নিউমোনিয়া।
viii) ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
২. এই ভ্যারিয়েন্টটি ডেল্টার চেয়ে ৫ গুণ বেশি বিষাক্ত এবং মৃত্যুহারও বেশি।
৩. উপসর্গগুলো খুব অল্প সময়েই মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং কখনও কখনও কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না দেখিয়েই অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে।
৪. তাই আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এই ভ্যারিয়েন্টটি নাসোফ্যারেঞ্জিয়াল (নাকের গভীর অংশ) অঞ্চলে পাওয়া যায় না, বরং সরাসরি ফুসফুসের “উইন্ডো” অংশে আঘাত করে এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
৫. কিছু রোগীর মধ্যে জ্বর বা ব্যথা না থাকলেও এক্স-রে করলে মৃদু নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া নাক দিয়ে নেয়া স্যাম্পলে (সোয়াব) পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসছে, যা পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট (ফলস নেগেটিভ) এর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এ কারণে এই ভাইরাসকে ‘ধূর্ত’ বলা হচ্ছে।
এর মানে হলো— এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে, সরাসরি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়, ভাইরাল নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি করে। এই কারণে COVID-Omicron XBB এত বেশি ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
৬. যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলুন, খোলা জায়গাতেও অন্তত ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন, সঠিকভাবে মাস্ক পরুন, এবং নিয়মিত হাত ধুয়ে ফেলুন—even যদি কাশি বা হাঁচি না থাকে।
এই COVID-Omicron XBB “ওয়েভ” প্রথম COVID-19 মহামারির চেয়েও ভয়াবহ।
সতর্কতা, সচেতনতা ও বৈচিত্র্যময় সুরক্ষা ব্যবস্থাই আমাদের রক্ষা করতে পারে।
✅ দয়া করে এই বার্তাটি বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
✅ শুধুমাত্র নিজের কাছে রেখে দেবেন না।
✅ যত বেশি সম্ভব লোককে জানিয়ে দিন।
ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org