The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কারণ এআই: মাইক্রোসফট ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুরো বিশ্বকে এআই যেনো তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এবার বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনের ধারায় নতুন করে ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিলো মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট।

কারণ এআই: মাইক্রোসফট ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে! 1

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ব্যবসায় আরও কার্যকরভাবে একীভূত করতে ও সংগঠনকে আরও দক্ষ এবং খরচ-সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই ছাঁটাইটি মাইক্রোসফটের বৈশ্বিক কর্মীবলের প্রায় ৪ শতাংশকে প্রভাবিত করবে।

মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘বাজার এবং প্রযুক্তিগত পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের কোম্পানি এবং বিভিন্ন টিমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আসা হচ্ছে, যাতে আমরা আগামীদিনের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারি।’

২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, মাইক্রোসফটের বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার। সেখান থেকে এই বড় পরিসরের ছাঁটাই কার্যকর করা হচ্ছে। এ বছরের মে মাসেও প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে।

এই ছাঁটাইয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনার স্তর হ্রাস ও এআই প্রযুক্তিকে বিভিন্ন পণ্যে আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। মাইক্রোসফট বলছে যে, তারা এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে কর্মীরা এআই-এর সহায়তায় আরও সৃজনশীল এবং ফলপ্রসূ কাজ করতে পারবেন।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপেনএআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাইক্রোসফট ব্যাপকভাবে এআই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়িয়েছে। এতে অবকাঠামোগত খরচও বেড়ে গেছে। এই ব্যয় সামলাতে ও ভবিষ্যতের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত রাখতে তারা কর্মীসংখ্যা কমানোর পথ নিয়েছেন।

মাইক্রোসফট আশ্বাস দিয়েছে যে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য সেভারেন্স প্যাকেজ, স্বাস্থ্যবীমা ও পুনরায় কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহায়তাও দেওয়া হবে।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি শুধু মাইক্রোসফটের একক সিদ্ধান্তই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের বড় পরিবর্তনেরই অংশ। এআই, অটোমেশন ও খরচ নিয়ন্ত্রণকে সামনে রেখে গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টও ইতিমধ্যেই একই ধরনের ছাঁটাই এবং পুনর্গঠনের পথেই এগিয়েছে। এই ধারা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali