দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে বিপ্লব ঘটানো চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের সেবায় বিজ্ঞাপন যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

গুগল এবং মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলেও এ পর্যন্ত চ্যাটজিপিটিকে লাভজনক অবস্থানে আসতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
দিন দিন এআই চ্যাটবটের পরিচালনা ব্যয় আকাশচুম্বী হতে থাকার কারণে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে প্রম্পটের উত্তরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের এই নতুন চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। রয়টার্স এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, ওপেনএআই ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন উপস্থাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং কাঠামোর নমুনা নিয়ে কাজও শুরু করেছে।
নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওপেনএআইয়ের কর্মীরা চ্যাটজিপিটির সাইডবারে কয়েকটি বিজ্ঞাপন কাঠামোর প্রাথমিক পরীক্ষা-নীরিক্ষাও চালিয়েছেন। ভবিষ্যতে যদি কোনো ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির কাছে কোনো পণ্য কেনার পরামর্শও চান কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চান, তবে চ্যাটবটের উত্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন কিংবা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও প্রদর্শিত হতে পারে।
যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দেখানোর বিষয়ে খুব একটা আগ্রহও প্রকাশ করেননি, তবে প্রতিদিন ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথোপকথনের মাধ্যমে জমা হওয়া বিপুল তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ও হয়ে উঠেছে। যে কারণে ওপেনএআই এই ব্যবসায় নামলে তা আমাজন, গুগল এবং মেটার দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখেও ফেলতে পারে।
তবে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ওপেনএআই বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব এতে না পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়েই এমনভাবে বিজ্ঞাপন যুক্ত করতে চায় যাতে করে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি না হয়।
তবে চ্যাটজিপিটিতে ঠিক কবে থেকে এই বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাটি চালু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সময়সীমাই নির্ধারণ করা হয়নি। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org