The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

হঠাৎ করে পায়ের মাংসপেশীতে টান পড়লে আপনাকে কী করতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পায়ের মাংসপেশীতে হঠাৎ টান বা ক্র্যাম্প অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। সাধারণত রাতের বেলা ঘুমের সময়, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের সময় এটি হতে পারে।

হঠাৎ করে পায়ের মাংসপেশীতে টান পড়লে আপনাকে কী করতে হবে 1

হঠাৎ পেশীতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। যদিও এটি বেশিরভাগ সময় সাময়িক সমস্যা, তবুও কিছু ক্ষেত্রে বারবার এমন হলে দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

কেনো টান পড়ে?

# শরীরে পানি ও খনিজের অভাব যেমন পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে পেশীতে টান পড়তে পারে।

# অতিরিক্ত পরিশ্রম বা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা পায়ের মাংসপেশিকে ক্লান্ত করে এবং ক্র্যাম্প তৈরি করে।

# রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলেও হঠাৎ পেশীতে টান দেখা দিতে পারে।

# গর্ভাবস্থায় বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়ায় এ সমস্যা বেশি হয়।

এ ছাড়া দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, ডিহাইড্রেশন বা কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও মাংসপেশীতে টান ধরতে পারে।

তাহলে আমাদের করণীয় কী?

স্ট্রেচিং ও ম্যাসাজ

টান ধরা পেশি আস্তে আস্তে টেনে ধরা ও হালকা ম্যাসাজ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কাফ মাসলে টান ধরে তবে পায়ের আঙুল শরীরের দিকে টেনে ধরে কয়েক সেকেন্ড রাখতে হবে।

গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক

হালকা গরম পানির ব্যাগ বা তোয়ালে দিয়ে সেঁক দিলে পেশি শিথিল হয়। আবার অনেক সময় ঠাণ্ডা সেঁকও উপকারী হতে পারে।

পানি ও খনিজ পূরণ

পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং কলা, খেজুর, ডাবের পানি, শাকসবজি ও দুধজাতীয় খাবার খেলে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়। এতে ভবিষ্যতে টান পড়ার সম্ভাবনা কমে।

শরীরচর্চা ও স্ট্রেচিং অনুশীলন

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং পেশিকে নমনীয় করে তোলে। বিশেষ করে হাঁটার আগে ও পরে পায়ের স্ট্রেচিং করলে টান ধরা প্রতিরোধ করা যায়।

অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলা

একটানা বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে হবে।

সঠিক জুতা ব্যবহার

খুব টাইট বা অস্বস্তিকর জুতা ব্যবহার করলে পায়ের রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়, ফলে টান ধরতে পারে। তাই আরামদায়ক জুতা পরা উচিত।

চিকিৎসকের পরামর্শ

যদি ঘন ঘন টান ধরে, দীর্ঘসময় ব্যথা থাকে বা হাঁটতে সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

পায়ের মাংসপেশীতে হঠাৎ টান ধরা সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, স্ট্রেচিং এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এ সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

৩ মন্তব্য
  1. soap2day বলেছেন

    I appreciate how this blog promotes self-love and self-care It’s important to prioritize our well-being and your blog reminds me of that

  2. perde বলেছেন

    I like the efforts you have put in this, regards for all the great content.

  3. Mckayla Waters বলেছেন

    Your writing is like a breath of fresh air in the often stale world of online content. Your unique perspective and engaging style set you apart from the crowd. Thank you for sharing your talents with us.

bn_BDBengali