The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহাবিশ্বের নতুন রহস্য ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়লো

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাকাশে এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেলো জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’।

মহাবিশ্বের নতুন রহস্য ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়লো 1

পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’।

সাধারণত ছায়াপথ কোটি কোটি নক্ষত্র কিংবা তারা দিয়ে গঠিত হলেও এই বিচিত্র বস্তুটিতে পর্যাপ্ত কোনো তারাই নেই। গবেষকদের মতে, এটি মূলত ‘ডার্ক ম্যাটার’ কিংবা অন্ধকার পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বিশাল মেঘ। আদি মহাবিশ্বের গঠন ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্যময় প্রকৃতি বুঝতে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির মিলানো-বিকোকা ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষক আলেজান্দ্রো বেনিতেজ-ল্যাম্বায় এই আবিষ্কারকে একটি ব্যর্থ ছায়াপথের গল্প হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, বস্তুটির একটি পূর্ণাঙ্গ ছায়াপথ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি সফল হয়নি।

বিজ্ঞানে সাফল্য অপেক্ষা ব্যর্থতা অনেক সময় বেশি তথ্য দেয় ও এখানে কোনো তারার অস্তিত্ব না থাকাটাই বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের তাত্ত্বিক ধারণাকে সঠিক প্রমাণ করে। এই বস্তুটি ‘রিআয়নাইজেশন-লিমিটেড এইচ আই ক্লাউড’ কিংবা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে, মহাবিশ্বের শুরুতেই ছায়াপথ তৈরির সময় যেসব অবশিষ্টাংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল, এটিও তারই একটি আদিম রূপ।

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইএসএ)-এর গবেষক র‍্যাচেল বিটন এবং অ্যান্ড্রু ফক্স এই আবিষ্কার সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, ক্লাউড-৯ অন্ধকার মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অনন্য জানালাও খুলে দিয়েছে। মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ উপাদানই হলো ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো নির্গত কিংবা প্রতিফলন করে না বলে সাধারণ টেলিস্কোপে সেটি দেখাও অসম্ভব।

তবে ক্লাউড-৯-এ কোনো তারার আলো নেই বলে বিজ্ঞানীরা সেখানে বিশুদ্ধ ডার্ক ম্যাটার ‘হেলো’ কিংবা বলয় কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও অনেক ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে যে, এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিজ্ঞানের প্রচলিত সব ধারণাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

গবেষকরা মনে করেন যে, প্রতিবেশী ছায়াপথগুলোর আশেপাশে এমন আরও কিছু ‘পরিত্যক্ত বাড়ি’ কিংবা অসম্পূর্ণ কাঠামোই থাকতে পারে, যা মহাবিশ্বের বিবর্তন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যায় সহায়কও হবে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ডার্ক ম্যাটার শনাক্ত করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলেও ক্লাউড-৯ সেই অন্ধকার জগতের রহস্য উন্মোচনেও এক বিরল সুযোগ করে দিয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali