দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান সময়ে হৃদ্রোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরল একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে অনেক মানুষের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় প্রাকৃতিক ও সহজ খাদ্য উপাদান হিসেবে বাদাম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর-এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
বাদাম বলতে সাধারণত চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। এসব বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি (Unsaturated Fat), ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ বাদাম খেলে রক্তে এলডিএলের মাত্রা কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এলডিএল কোলেস্টেরল ধমনীতে চর্বি জমিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, আর এইচডিএল সেই জমে থাকা চর্বি দূর করতে সহায়তা করে। বাদামে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এই ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
কাঠবাদাম এবং আখরোট বিশেষভাবে কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্রের প্রদাহ কমায় এবং রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই ধমনীর ভেতরের দেয়ালকে সুরক্ষা দেয় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
চিনাবাদামও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, যদিও এটি প্রযুক্তিগতভাবে বাদাম নয়, বরং ডালজাতীয় খাদ্য। তবুও এতে থাকা ভালো চর্বি এবং ফাইবার কোলেস্টেরলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে লবণযুক্ত বা ভাজা চিনাবাদামের পরিবর্তে কাঁচা বা হালকা ভাজা চিনাবাদাম খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বাদাম উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, যা আবার কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন এক মুঠো (প্রায় ২০–৩০ গ্রাম) বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে বাদাম গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়।
বাদাম কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক একটি প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান। নিয়মিত এবং পরিমিতভাবে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে হৃদস্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরলজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org